১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
জীবনযাপন

চিনি ছাড়ুন, প্রোটিন খান, ব্যায়াম করুন- সুস্থ জীবনের সহজ ৩ অভ্যাস

fitness-online-athletic-young-woman-doing-yoga-in-living-room-stretching-on-yoga-mat-in-front-of-laptop-copy-space-good-looking-brunette-lady-exercising-at-home-using-lessons-side-view-photo

একসময় হরমোনজনিত সমস্যা বা ডায়াবেটিসকে বয়স বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন কৈশোর পেরোনোর আগেই অনেক মেয়ের শরীরে দেখা দিচ্ছে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার নানা লক্ষণ। আবার ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীদের মধ্যেও অনিয়মিত মাসিক, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, থাইরয়েডের সমস্যা, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন এবং সন্তান ধারণে জটিলতার মতো সমস্যা ক্রমেই আলোচনায় আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সমস্যার পেছনে একক কোনো কারণ দায়ী নয়। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন—সবকিছু মিলেই হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

কৈশোরেই শুরু হতে পারে সমস্যা

নারীদের হরমোনজনিত সমস্যার একটি বড় অংশের শুরু হতে পারে কৈশোরে। মাসিক শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর কিছুটা অনিয়ম স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘদিন মাসিক অনিয়মিত থাকা, অতিরিক্ত রক্তপাত, মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম, তীব্র ব্রণ কিংবা দ্রুত ওজন বাড়ার মতো লক্ষণকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

বিশেষ করে PCOS-এর ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ দেখা যেতে পারে। এটি শুধু প্রজননস্বাস্থ্যের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ওজন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী সময়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও সম্পর্কিত হতে পারে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কেন বাড়ছে?

Advertisements

নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শরীরের কোষ যখন ইনসুলিনের প্রতি যথাযথভাবে সাড়া দিতে পারে না, তখন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দিকে যেতে পারে। অনেক তরুণী দিনের বড় একটি সময় বসে কাটান, শারীরিক পরিশ্রম কম করেন এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি পানীয় বা উচ্চ-ক্যালরির খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। এর সঙ্গে ঘুমের ঘাটতি ও মানসিক চাপ যুক্ত হলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বন্ধ্যাত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়?

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে নারীর প্রজননক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। PCOS-এর কারণে অনেকের নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন না হওয়ায় গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। আবার থাইরয়েড হরমোনের অস্বাভাবিকতাও মাসিক চক্র ও ডিম্বস্ফোটনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—হরমোনজনিত সমস্যা থাকলেই একজন নারী বন্ধ্যা হয়ে যাবেন, এমন নয়। সঠিক সময়ে কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা ও জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রেই গর্ভধারণ সম্ভব।

শুধু ওজন নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ

হরমোনের সমস্যা দেখা দিলে অনেকেই শুধু ওজন কমানোর দিকে মন দেন। অথচ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া। নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর ও সুষম খাবার এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—সবই গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত কঠোর ডায়েটও সমাধান নয়। দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকা বা প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম ক্যালরি গ্রহণ করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই ব্যক্তির বয়স, ওজন, শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা উচিত।

কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন?

মাসিক দীর্ঘদিন অনিয়মিত থাকা, অস্বাভাবিকভাবে বেশি বা কম মাসিক হওয়া, হঠাৎ ওজন বাড়া বা কমা, অতিরিক্ত ব্রণ, মুখে-শরীরে অতিরিক্ত লোম, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা ঘন ঘন প্রস্রাব—এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি উপেক্ষা না করাই ভালো।

বিশেষ করে ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হরমোনজনিত সমস্যার অনেকগুলোই শুরুতে নীরবে এগোয়।

সচেতনতাই প্রথম প্রতিরোধ

নারীর স্বাস্থ্যকে শুধু সন্তান ধারণের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার সময় শেষ। হরমোন, বিপাকীয় স্বাস্থ্য, মাসিকচক্র ও প্রজননস্বাস্থ্য—সবকিছুই সামগ্রিক সুস্থতার অংশ। কৈশোর থেকেই নিজের শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণকে ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে না যাওয়াই হতে পারে ভবিষ্যতের বড় জটিলতা প্রতিরোধের প্রথম ধাপ।

হরমোনজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে নিজের মতো করে ওষুধ খাওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরামর্শ অনুসরণ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী গাইনি, এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

Advertisements