১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বিবিধ

জালি’য়াতির অভিযোগ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়লেন পুতুল

_bf825c487d8ea984ca0986f590fc2454

জালিয়াতি, প্রতারণা ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। গতকাল বুধবার তিনি পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগপত্র দেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই তাঁকে ঘিরে ওঠে নানা অভিযোগ। গত বছরের শেষ দিকে সংস্থাটি তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। এর আগে চলতি বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।


রয়টার্সের হাতে আসা ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের একটি চিঠিতে ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে পুতুলের বিরুদ্ধে চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। একই চিঠিতে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুতুল।

আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া জবাবে তিনি বলেন, নিয়মিত ভ্রমণ ব্যয়ের অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে পুতুল জানান, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি তিনি শুরু থেকেই ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন।

পদত্যাগপত্রে পুতুল আরও দাবি করেছেন, বাংলাদেশে একটি প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে তুলেছে ডব্লিউএইচও। তবে এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমির মালিকানা লাভ করেছিলেন।

Advertisements

শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় তিনি ওই জমির অধিকারী হয়েছেন বলেও দাবি করেন পুতুল। নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসকে দেওয়া চিঠিতে বলেন, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সেবা করার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং দায়িত্বটি আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছেন।

তবে তাঁর ভাষ্য, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা এবং বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কারণে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর তাঁর আস্থা আর অবশিষ্ট নেই। পুতুল আরও জানান, প্রায় এক বছর ধরে বেতন না পাওয়ায় তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব কারণেই শেষ পর্যন্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

পদত্যাগের বিষয়ে পুতুলের কাছে আরও মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। ডব্লিউএইচওও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, পুতুল প্রশাসনিক ছুটিতে রয়েছেন। তবে গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।

এদিকে পুতুলকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ডব্লিউএইচও আগেই করেছিল বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্র। তাঁদের একজনের দাবি, সংস্থাটি আগামী ১২ অক্টোবর নতুন আঞ্চলিক পরিচালকের পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করতে পারে। ডিসেম্বরে প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর আগামী ২৪ জানুয়ারি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালকের পদটি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন, রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা, জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে সমন্বয় এবং বিভিন্ন দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতিকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো প্রতি পাঁচ বছর পরপর ভোটের মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচন করে। ফলে পুতুলের পদত্যাগের পর এখন এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কে আসছেন, তা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

Advertisements