১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২ আশ্বিন ১৪৩৩
এডিটরস পিক

পুরুষ সঙ্গীর চেয়ে পোষা কুকুরের পাশে ঘুমেই বেশি স্বস্তি নারীদের, বলছে গবেষণা

IMG_4888

পোষা কুকুর শুধু বিশ্বস্ত সঙ্গীই নয়, অনেক নারীর জন্য ভালো ঘুমের সঙ্গীও হতে পারে। ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানবসঙ্গীর তুলনায় পোষা কুকুরের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমালে নারীরা তুলনামূলক বেশি স্বস্তি ও নিরাপত্তা অনুভব করেন এবং ঘুমের ব্যাঘাতও কম হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানিসিয়াস কলেজের গবেষক ক্রিস্টি এল. হফম্যানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয় Anthrozoös (এনথ্রুজুস) সাময়িকীতে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৯৬২ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী অংশ নেন। গবেষণায় তাদের বিছানায় ঘুমানো সঙ্গী হিসেবে মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের উপস্থিতি এবং এর সঙ্গে ঘুমের অভিজ্ঞতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের ৫৫ শতাংশ অন্তত একটি কুকুরের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতেন। ৩১ শতাংশের সঙ্গে থাকত অন্তত একটি বিড়াল এবং ৫৭ শতাংশ মানবসঙ্গীর সঙ্গে বিছানা ভাগ করতেন।

গবেষণার ফল অনুযায়ী, কুকুরের সঙ্গে ঘুমানো নারীরা মানবসঙ্গীর তুলনায় কম ঘুমের ব্যাঘাতের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি কুকুরের উপস্থিতি তাদের মধ্যে বেশি স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করেছে।

গবেষকদের মতে, এর একটি কারণ হতে পারে কুকুরের তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট ঘুমের সময়সূচি। মানুষের মতো অতিরিক্ত নড়াচড়া বা বিভিন্ন সময়ে ঘুম থেকে ওঠার প্রবণতা কুকুরের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম হওয়ায় তারা অনেকের জন্য বেশি উপযোগী ঘুমের সঙ্গী হতে পারে।

এ ছাড়া কুকুরের দেখভালের জন্য নিয়মিত খাবার দেওয়া, হাঁটাতে নিয়ে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর মতো দৈনন্দিন রুটিনও মালিকদের একটি নির্দিষ্ট ঘুমের সময়সূচি মেনে চলতে উৎসাহিত করতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, কুকুরের মালিকরা বিড়ালের মালিক বা কুকুর না থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় সাধারণত আগে ঘুমাতে যান এবং আগে ঘুম থেকে ওঠেন।

Advertisements

অন্যদিকে, গবেষণায় বিড়ালকে মানবসঙ্গীর মতোই তুলনামূলক বেশি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন সঙ্গী হিসেবে পাওয়া যায়। বিড়ালের সঙ্গে ঘুমানো অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কুকুরের তুলনায় স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতিও কিছুটা দুর্বল ছিল।

তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। গবেষণার বেশির ভাগ তথ্য অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তারা নিজেরা কেমন ঘুমিয়েছেন বলে অনুভব করেছেন, সেটিই মূলত বিবেচনায় এসেছে। অন্যদিকে অ্যাক্টিগ্রাফির মতো ঘুম পরিমাপের প্রযুক্তি ব্যবহার করা কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিছানায় থাকা কুকুরের নড়াচড়া ঘুমের কার্যকারিতায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে।

কুকুরের আকার ও জাতও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যেমন পাগ বা বুলডগের মতো চ্যাপ্টা নাকের কিছু জাতের কুকুর বেশি নাক ডাকতে পারে, যা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

এ ছাড়া মায়ো ক্লিনিকের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কুকুরকে একই বিছানায় রাখলে ঘুমে সামান্য ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তবে কুকুরকে একই ঘরে আলাদা জায়গায় ঘুমাতে দিলে তার উপস্থিতি থেকে পাওয়া মানসিক স্বস্তি বজায় রেখেও বিছানায় নড়াচড়াজনিত কিছু সমস্যা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

সব মিলিয়ে, গবেষণাটি কুকুরের সঙ্গে ঘুমানো নারীদের অনুভূত স্বস্তি ও নিরাপত্তার একটি আকর্ষণীয় চিত্র তুলে ধরেছে। তবে কুকুরের সঙ্গে ঘুমালেই যে ঘুমের মান নিশ্চিতভাবে উন্নত হবে, এমন সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

Advertisements