১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২ আশ্বিন ১৪৩৩
স্পটলাইট

আগামী বছর চালু হতে পারে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট

IMG_4900

ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী বছরই এ রুটে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আজ সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের বিমান চলাচল খাতের সহযোগিতা, উড়োজাহাজ সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও পর্যটন নিয়ে আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি অ্যাসেসমেন্ট (আইএএসএ)-এ ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন করা ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বিস্তার এবং দেশটিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা-নিউইয়র্ক (জেএফকে) রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ রুট চালুর বিষয়ে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

বৈঠকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য ইতোমধ্যে চুক্তি হয়েছে এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত এপ্রিল মাসে সই হওয়া ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে এসব উড়োজাহাজ সরবরাহের কথা রয়েছে।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিমান বহর আরও বড় করতে আরও ২১টি বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার জন্য চুক্তি প্রস্তুতের কাজও চলছে।

Advertisements

মন্ত্রী বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের আকাশপথের যোগাযোগ আরও উন্নত করতে একটি এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি আধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ বাড়াতে বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পর্যটন খাত নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে সরকার।

Advertisements