১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১ আশ্বিন ১৪৩৩
এডিটরস পিক

স্বপ্নের মধ্যেই কি দুজন মানুষের যোগাযোগ সম্ভব?

IMG_4865

ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্নে অন্য একজন মানুষের সঙ্গে কথা বলা বা তার সঙ্গে কোনো অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া—বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে এমন দৃশ্য বহুবার দেখা গেছে। তবে বাস্তবেও কি দুজন মানুষের মধ্যে স্বপ্নের মাধ্যমে যোগাযোগ সম্ভব? সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্রযুক্তির সহায়তায় এমন যোগাযোগের সম্ভাবনা বাস্তবেই দেখা গেছে।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লুসিড ড্রিম। এটি এমন এক ধরনের স্বপ্ন, যেখানে মানুষ ঘুমের মধ্যেই বুঝতে পারে যে সে স্বপ্ন দেখছে। ফলে স্বপ্নের বিভিন্ন ঘটনা বা নিজের আচরণ কিছুটা সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ তৈরি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, অভিজ্ঞ লুসিড ড্রিমাররা ঘুমের র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (REM) পর্যায়ে থাকাকালে নির্দিষ্ট সংকেতের মাধ্যমে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। একই সময়ে দুই বা একাধিক ব্যক্তির ঘুমের এই পর্যায় সমন্বিত হলে স্বপ্নের অভিজ্ঞতা নিয়ে যোগাযোগের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক নিউরোটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান রেমস্পেস ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর একটি পরীক্ষা চালায়। এতে দুই অভিজ্ঞ লুসিড ড্রিমারকে আলাদা জায়গায় ঘুম পাড়িয়ে বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে তাদের ঘুমের পর্যায় ও মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়।

পরীক্ষার এক পর্যায়ে প্রথম অংশগ্রহণকারী লুসিড ড্রিমে প্রবেশ করার পর সার্ভার থেকে একটি নির্দিষ্ট শব্দ ইয়ারবাডের মাধ্যমে তার কানে পাঠানো হয়। তিনি স্বপ্নের মধ্যেই শব্দটি উচ্চারণ করেন এবং সেন্সরের মাধ্যমে তা রেকর্ড করা হয়। প্রায় আট মিনিট পর দ্বিতীয় অংশগ্রহণকারী লুসিড ড্রিমে প্রবেশ করলে রেকর্ড করা শব্দটি তার কাছেও পাঠানো হয়।

ঘুম থেকে ওঠার পর দ্বিতীয় ব্যক্তিও শব্দটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। ফলে ঘটনাটিকে অনেকে ‘ড্রিম টেলিপ্যাথি’ হিসেবে উল্লেখ করলেও, পরীক্ষাটি আসলে প্রযুক্তির সাহায্যে স্বপ্নের অবস্থায় তথ্য আদান-প্রদানের একটি উদাহরণ।

Advertisements

এর আগে ইইজি ব্যবহার করে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণাতেও দেখা গেছে, লুসিড ড্রিমের সময় মানুষের মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট ধরনের স্নায়বিক কার্যকলাপ শনাক্ত করা যায়। স্বপ্নের মধ্যে সচেতন থাকা অবস্থায় চোখের নড়াচড়া বা অন্যান্য পূর্বনির্ধারিত সংকেত ব্যবহার করে ঘুমন্ত ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে দুজন মানুষ কোনো প্রযুক্তি ছাড়াই দূর থেকে একে অপরের স্বপ্নে প্রবেশ করতে বা টেলিপ্যাথির মাধ্যমে কথা বলতে পারেন—এমন দাবির পক্ষে এখনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ইতিহাসে স্বপ্নের মাধ্যমে প্রিয়জনের কাছ থেকে বার্তা পাওয়ার বহু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শোনা গেলেও সেগুলোকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যোগাযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

বরং বর্তমান গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষ ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার সময়ও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাইরের সংকেত গ্রহণ এবং তার প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে ঘুম, স্বপ্ন ও মানুষের চেতনা নিয়ে গবেষণার নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।

Advertisements