ভেনিস থেকে ফিরেই শুটিংয়ে সুনেরাহ, ‘কিছুটা সময়ের জন্য পেতনি হতে চাই’

নিজের অভিনীত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমা নিয়ে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী ও মডেল সুনেরাহ্ বিনতে কামাল। ভেনিসের অভিজ্ঞতা, অভিনয়, ফ্যাশন, খাবার, ফিটনেস ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করার জন্যও তিনি বেশ কিছু প্রস্তাব পেয়েছেন।
ঢাকায় ফিরে এখন নতুন কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুনেরাহ্। রাফাত মজুমদার রিংকুর একটি একক নাটকে ইয়াশ রোহানের সঙ্গে অভিনয় করবেন তিনি। নাটকটির শুটিং হবে ময়মনসিংহে, চলবে চার দিন।
ভেনিস সফর থেকে অনেক প্রশংসা, আত্মবিশ্বাস ও নতুন কাজের অনুপ্রেরণা নিয়ে ফিরেছেন বলে জানান সুনেরাহ্। সেখানে সাংবাদিক, সমালোচক, প্রযোজক, পরিচালক ও বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রকর্মীদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছে। অনেকে তাঁর অভিনয়, সৌন্দর্য ও কথা বলার ধরন নিয়ে প্রশংসা করেছেন। এমনকি কয়েকজন প্রযোজক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ না করার কারণ জানতে চেয়েছেন অনেকে।
এর আগে নুহাশ হুমায়ূনের ‘মশারি’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়েও ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছিলেন সুনেরাহ্। ভেনিসে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সেখানে উপস্থিত অনেকেই ‘মশারি’ দেখেছেন এবং তাঁকে সেই সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবেও চিনেছেন।

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমায় সুনেরাহ্ অভিনয় করেছেন একটি ‘গোস্ট-ব্রাইড’ চরিত্রে। কয়েক বছর আগে একটি অনুষ্ঠানে নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তখনই নির্মাতা জানিয়েছিলেন, তিনি সুনেরাহর সঙ্গে কাজ করতে চান। পরে সিনেমাটির চরিত্রের জন্য তাঁকেই নির্বাচন করা হয়।
সিনেমাটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে সুনেরাহ্ জানান, প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় নিয়ে তাঁর ব্রাইডাল মেকআপ করা হতো। ভারী লেহেঙ্গা, গয়না, বিয়ের ওড়না, ফেক নখসহ পুরো সাজে দীর্ঘ সময় থাকতে হতো। ফলে শুটিং চলাকালে ওয়াশরুমে যাওয়াও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে পুরো অভিজ্ঞতাকে তিনি দারুণ বলে উল্লেখ করেছেন।
ভেনিসে নিজের পোশাকের ক্ষেত্রেও ছিল সুনেরাহর নিজস্ব পরিকল্পনা। কোনো প্রিন্টেড পোশাক না নিয়ে সাদা, কালো, গাঢ় বাদামি ও গোলাপির মতো রঙের মিনিমাল ও মনোক্রোম লুক বেছে নিয়েছিলেন তিনি। নিজের পোশাক নিজেই স্টাইল করেছেন। তাঁর মতে, এমনভাবে পোশাক বেছে নিয়েছিলেন যাতে অন্য দেশের মানুষ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী হন।
ভেনিসে একটি গোলাপি জামদানি পরেছিলেন সুনেরাহ্। সেই লুকের গয়না, ব্লাউজ ও ব্যাগের নকশাতেও ছিল একই ধরনের মোটিফ। আর প্রাডার ককটেল পার্টির জন্য পরেছিলেন কাস্টমাইজড স্ট্র্যাপলেস করসেট টপ ও মারমেইড স্কার্ট। ওই অনুষ্ঠানে পাওয়া প্রশংসা তাঁকে বিশেষভাবে অবাক করেছে বলে জানান তিনি।
খাবারের ক্ষেত্রেও ভেনিসে কোনো কার্পণ্য করেননি সুনেরাহ্। ইতালীয় খাবার তাঁর বিশেষ পছন্দের হওয়ায় সফরে বারবার স্প্যাগেটি, পাস্তা, পিৎজা, সিফুড, মাছ ও স্টেক খেয়েছেন। একই সঙ্গে প্রচুর হাঁটাহাঁটিও করেছেন।
নিজের ফিটনেস প্রসঙ্গে সুনেরাহ্ জানান, নিয়মিত জিমে গিয়ে ওয়ার্কআউট করেন না। বরং প্রচুর হাঁটেন, যোগব্যায়াম করেন এবং মাঝেমধ্যে স্ট্রেচিং করেন। খাবারের ক্ষেত্রেও নিজেকে খুব বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখেন না। ভাত, রুটি, ডিম, মাংস, পরোটা, পিৎজা, পাস্তা, নুডলস, পোলাও, খিচুড়ি—সবই খান। তবে তাঁর দাবি, তিনি পরিমাণ বুঝে খাবার খান এবং সম্ভবত তাঁর মেটাবলিজম ভালো।
ব্যক্তিজীবন নিয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। পরিবারের সঙ্গে থাকেন বলে জানান তিনি। একা থাকতে তাঁর ভয় লাগে। মজার ছলে জানান, দুটি হরর সিনেমায় অভিনয় করলেও একা থাকার ক্ষেত্রে ভয় এখনো কাটেনি।
বরং এবার নিজেই পেতনি চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সুনেরাহ্। তাঁর ভাষায়, কিছুটা সময়ের জন্য পেতনি হতে চান তিনি—যাঁরা তাঁর সঙ্গে সুবিচার করেননি, তাঁদের একটু ভয় দেখানোর জন্য!
ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বদলেছে তাঁর পছন্দ। এত দিন থাইল্যান্ড ছিল তাঁর প্রিয় গন্তব্য। ভেনিস সফরের পর এখন সেই জায়গা নিয়েছে ভেনিস। ভবিষ্যতে আবার সেখানে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অভিনয় ও কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নটিরও সরাসরি উত্তর দিয়েছেন সুনেরাহ্। জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সিঙ্গেল।
সূত্র: প্রথম আলো



