বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
স্বাস্থ্য

শিশুর বেছে বেছে খাবার খাওয়ার অভ্যাস দূর করবেন যেভাবে

child-1-20231115135103

শিশুর খাবার নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। অনেক শিশু এক-দুই ধরনের খাবার ছাড়া অন্য কিছু খেতে চায় না। কেউ আবার সবজি, মাছ বা ফল দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। পছন্দের খাবার হিসেবে তাদের তালিকায় জায়গা করে নেয় চিকেন নাগেটস, স্যান্ডউইচ কিংবা বিভিন্ন প্যাকেটজাত স্ন্যাকস। ফলে শিশুর পুষ্টি ঠিকমতো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা-মা।

তবে শিশুর বেছে বেছে খাবার খাওয়ার অভ্যাস একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ধৈর্য ধরে কিছু নিয়ম মেনে চললে ধীরে ধীরে শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খাবারের সঙ্গে পরিচিত করা যায়। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।

খাবার নিয়ে নেতিবাচক কথা নয়

খাবারের টেবিলে কোনো খাবারকে ‘খারাপ’, ‘বাজে’ বা ‘খাওয়া যায় না’—এভাবে মন্তব্য করা উচিত নয়। কারণ বড়দের মুখে কোনো খাবার সম্পর্কে নেতিবাচক কথা শুনলে শিশুরাও সেটিকে অপছন্দ করতে শুরু করতে পারে।

Advertisements

এর অর্থ এই নয় যে শিশুকে জোর করে সব খাবার খাওয়াতে হবে। বরং তাকে বোঝাতে হবে, বিভিন্ন খাবারের বিভিন্ন পুষ্টিগুণ রয়েছে। কোনো খাবার তার পছন্দ না হলে সেটি না খাওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তবে খাবার নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভ্যাস তৈরি করা ঠিক নয়।

খাবারকে পুরস্কার বা শাস্তি বানাবেন না

‘সব খাবার শেষ করলে তোমাকে পুরস্কার দেব’—এ ধরনের কথা শিশুর খাবার সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। এতে খাবার খাওয়াকে সে আনন্দের পরিবর্তে একটি কঠিন কাজ হিসেবে ভাবতে শুরু করতে পারে। তাই খাবার খাওয়াকে প্রতিদিনের স্বাভাবিক রুটিনের অংশ হিসেবে গড়ে তুলুন। একইভাবে শিশুকে শাস্তি দেওয়ার জন্য খাবার বন্ধ করাও ঠিক নয়। ভালো আচরণের জন্য মাঝে মাঝে পছন্দের স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা যেতে পারে, তবে খাবারকে পুরস্কার বা শাস্তির মাধ্যম বানানো উচিত নয়।

নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দিন

খাবারের সময় শিশুর অনিয়ম হলে ক্ষুধার স্বাভাবিক অনুভূতিও নষ্ট হতে পারে। তাই প্রতিদিন মোটামুটি নির্দিষ্ট সময়ে খাবার ও স্বাস্থ্যকর নাশতার ব্যবস্থা করা ভালো। খাবারের মাঝখানে বারবার হালকা নাশতা, মিষ্টি বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস দিলে মূল খাবারের সময় শিশুর ক্ষুধা নাও থাকতে পারে। আবার ক্ষুধার অজুহাতে শিশুকে যখন-তখন অস্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়ার অভ্যাসও করা উচিত নয়। খাবারের সময় শিশুকে হাঁটাহাঁটি বা খেলাধুলা করতে দেওয়া ঠিক নয়। বসে মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।

খাবারের সময় হোক পারিবারিক আয়োজন

শিশুকে টেলিভিশন, মোবাইল বা অন্য কোনো স্ক্রিন দেখাতে দেখাতে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকা ভালো। এতে শিশু খাবারের প্রতি মনোযোগ হারায় এবং পরিবারের সঙ্গে বসে খাওয়ার অভ্যাসও তৈরি হয় না। সম্ভব হলে পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাবার টেবিলে বসুন। এ সময় গল্প করা, দিনের নানা ঘটনা নিয়ে কথা বলা কিংবা একে অন্যের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে শিশুর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কও আরও ঘনিষ্ঠ হবে। একই সঙ্গে শিশুর জন্য আলাদা করে সব সময় ভিন্ন খাবার তৈরি না করে পরিবারের খাবারের মধ্য থেকেই বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী খাবার দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।

পছন্দ না করলেও আবার দিন

কোনো খাবার একবার মুখে দিয়ে শিশুর ভালো না লাগলেই সেটি তার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শিশুকে কিছুদিন পর আবার সেই খাবারটি দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে কোনো খাবার খেতে না চাইলে জোর করা যাবে না। এতে খাবারের প্রতি বিরক্তি তৈরি হতে পারে। বরং খাবারটি আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশন করা, রং ও আকৃতিতে বৈচিত্র্য আনা কিংবা পরিচিত কোনো পছন্দের খাবারের সঙ্গে নতুন খাবার যোগ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। শিশু কেন খাবারটি খাওয়া দরকার, সেটিও সহজ ভাষায় বোঝাতে পারেন। তবে ‘এটা না খেলে তুমি অসুস্থ হয়ে যাবে’—এ ধরনের ভয় দেখানো থেকে বিরত থাকাই ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিশুর খাবার নিয়ে অভিভাবকদের ধৈর্যশীল থাকা। একদিনে শিশুর পছন্দ বদলাবে না। বারবার চাপ না দিয়ে, আনন্দময় পরিবেশে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে তাকে পরিচিত করাতে পারলেই ধীরে ধীরে বেছে বেছে খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমানো সম্ভব।

Advertisements
অভ্যাসখাবারশিশু