২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

রডের বদলে বাঁশ, অনিয়মে এলজিইডির ৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

IMG_5274

নোয়াখালী ও টাঙ্গাইলে সেতু নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের দুজন এবং টাঙ্গাইলের বাসাইলের একজন রয়েছেন। একই ঘটনায় নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মন্ডল ও বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনছুর আহমেদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন এলজিইডির নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। তাকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. হাসমত আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এলজিইডি জানিয়েছে, নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনায় আসে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisements

এর আগে বাসাইলের একই ঘটনায় উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, উন্নয়নকাজে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের অর্থের অপব্যবহার কিংবা মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে অব্যাহতির মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

Advertisements