২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

সবকিছু কেন বিরক্ত লাগে?

IMG_5261

ইদানীং সামান্য বিষয়েই কি মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে? আশপাশের মানুষের কথাবার্তা বা আচরণে সহজেই বিরক্ত লাগছে? এমনটা হলে বিষয়টিকে শুধু স্বভাবের পরিবর্তন হিসেবে না দেখে এর পেছনের কারণগুলোও খেয়াল করা জরুরি। ঘুমের ঘাটতি থেকে শুরু করে অতিরিক্ত মানসিক চাপ—বিভিন্ন কারণেই মানুষ খিটখিটে মেজাজের হয়ে উঠতে পারে।

১. অপর্যাপ্ত ঘুম

পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম না হলে ক্লান্তি, আবেগপ্রবণতা এবং হতাশা বাড়তে পারে। ঘুমের ব্যাঘাত মনোযোগ ও মেজাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

২. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ

কাজের চাপ, আর্থিক দুশ্চিন্তা, সম্পর্কের সমস্যা কিংবা নানা ধরনের দায়িত্বের কারণে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এই চাপ বাড়তে থাকলে সামান্য সমস্যাও অনেক বড় বলে মনে হতে পারে।

৩. মানসিকভাবে অতিরিক্ত চাপগ্রস্ত হওয়া

Advertisements

একসঙ্গে অনেক কাজ, বার্তা, সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন কেউ কেউ। তখন সাধারণ কোনো অনুরোধ বা ছোটখাটো ঘটনাও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৪. অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম

দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, খবর কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্টে ব্যস্ত থাকলে মস্তিষ্কের ওপর উদ্দীপনা বাড়ে এবং বিশ্রামের সুযোগ কমে যায়। ঘন ঘন নোটিফিকেশন ও বাধার কারণেও মানসিকভাবে স্বস্তি পাওয়া কঠিন হতে পারে।

৫. খাবার বাদ দেওয়া বা অপুষ্টি

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে কিছু মানুষের ক্লান্তি, ক্ষুধা ও বিরক্তি বাড়তে পারে। নিয়মিত ও সুষম খাবার শরীরের পাশাপাশি সারাদিনের শক্তি ও মেজাজ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক।

৬. শারীরিক কার্যকলাপের অভাব

নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা মেজাজ ভালো রাখতে এবং মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করে। বিপরীতে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলে শক্তি কমে অস্থিরতা বাড়তে পারে।

৭. বিশ্রাম ও নিজের জন্য সময়ের অভাব

সারাক্ষণ কাজ, অন্যের যত্ন নেওয়া কিংবা ফোনে যুক্ত থাকার ফলে মানসিক শক্তি কমে যেতে পারে। নিয়মিত বিরতি ও নিরিবিলি সময় না পেলে ধীরে ধীরে বিরক্তি ও অস্থিরতা বাড়তে পারে।

তাই খিটখিটে মেজাজকে শুধু আচরণগত সমস্যা হিসেবে না দেখে পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, শারীরিক কার্যকলাপ, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্রামের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

Advertisements