বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

শিশুর নিষ্ঠুর আচরণ হতে পারে মানসিক সমস্যার সতর্কসংকেত

images

কোনো শিশু প্রাণীকে কষ্ট দিলে, সহপাঠীকে অপমান করলে, ভয় দেখালে বা মারধর করলে অনেক সময় তাকে ‘নিষ্ঠুর’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। তবে শিশু-কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আচরণ সবসময় শুধু দুষ্টুমি নয়; অনেক ক্ষেত্রে এটি শিশুর মানসিক বা আচরণগত সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে।

শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. টুম্পা ইন্দ্রানী ঘোষের মতে, শিশুর সব দুষ্টুমি নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে পড়ে না। অনেক সময় কৌতূহল বা না বোঝার কারণে শিশুরা প্রাণীকে বেশি জোরে ধরতে পারে, পোকামাকড় মেরে ফেলতে পারে বা বন্ধুকে ধাক্কা দিতে পারে।

তবে কোনো শিশু যদি বারবার ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষ বা প্রাণীকে কষ্ট দেয়, অন্যের ভয় বা কান্না দেখে আনন্দ পায়, নিজের আচরণের জন্য অনুশোচনা না করে কিংবা দুর্বল কাউকে বারবার লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ বা প্রাণীর প্রতি পুনরাবৃত্ত নিষ্ঠুর আচরণ অনেক সময় কনডাক্ট প্রবলেম বা কনডাক্ট ডিজঅর্ডারের মতো আচরণগত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

Advertisements

এ ধরনের আচরণের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। পরিবারের মধ্যে সহিংসতা দেখা, সেখান থেকে শক্তি প্রদর্শনের ভুল ধারণা শেখা, নিজে অবহেলা বা নির্যাতনের শিকার হওয়া, বুলিংয়ের অভিজ্ঞতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, এডিএইচডি, শেখার সমস্যা, ট্রমা বা বিষণ্নতা এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া সহানুভূতি শেখার সুযোগের অভাব, অতিরিক্ত সহিংস কনটেন্ট দেখা এবং পরিবারের অতিরিক্ত কঠোর বা অতিরিক্ত উদাসীন আচরণও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন আচরণের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত সমস্যাটিকে অস্বীকার না করা এবং শিশুকে ‘খারাপ’ বা ‘দানব’ হিসেবে চিহ্নিত না করা। বরং শান্ত ও দৃঢ়ভাবে বোঝাতে হবে যে রাগ বা বিরক্তি স্বাভাবিক হলেও কাউকে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

শিশুর আচরণ কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখা, প্রাণী বা ছোট শিশুর সঙ্গে তার মেলামেশার ক্ষেত্রে নজর রাখা এবং শাস্তির বদলে যুক্তিসংগত পরিণতি নির্ধারণ করা জরুরি। যেমন, কোনো প্রাণীকে কষ্ট দিলে তাকে প্রাণীর যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া বা বড়দের তত্ত্বাবধানে প্রাণীর প্রতি যত্নশীল আচরণ শেখানো যেতে পারে।

শিশুর ইতিবাচক আচরণকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাগের সময় আঘাত না করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে তার প্রশংসা করা উচিত। পাশাপাশি গল্প, বই পড়া, পোষা প্রাণীর যত্ন নেওয়া এবং অন্যকে সাহায্য করার মাধ্যমে শিশুর মধ্যে সহানুভূতিশীল মনোভাব তৈরি করা সম্ভব।

স্কুলের শিক্ষকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বুলিং বা নিষ্ঠুর আচরণকে ‘শিশুদের সাধারণ বিষয়’ হিসেবে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আক্রান্ত শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ করা, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং অভিযুক্ত শিশুর জন্য আচরণ পরিবর্তনের পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো বিষয়টি শনাক্ত করে সঠিক সহায়তা দেওয়া গেলে শিশুর আচরণ ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব।

Advertisements
মানসিক সমস্যাশিশুস্বাস্থ্য