১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বিবিধ

সংসদে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে: রুমিন ফারহানা

image-360764-1770984560

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার দাবি, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই সংসদীয় শিষ্টাচার বা রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে বুধবার ব্যাংক রেজুল্যশন (সংশোধন) বিল নিয়ে আলোচনার সময় রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে সরকারদলীয় সদস্যদের মধ্যে হইচই ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

বিষয়টি তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকলে বক্তব্য শেষ হওয়ার পর নিয়ম মেনে তার জবাব দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু বক্তব্য চলাকালে যে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা গণতান্ত্রিক সংসদের পরিবেশের সঙ্গে যায় না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার আশপাশে থাকা কয়েকজন সংসদ সদস্য তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। এমন আচরণ কোনো সংসদীয় রীতির মধ্যে পড়ে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সময় সংসদে আবারও হইচই শুরু হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সদস্যদের শান্ত থাকার ইঙ্গিত দেন।

স্পিকার বলেন, সংসদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে তিনি। সরকারি দল কিংবা বিরোধী দলের কোনো সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় অন্য পক্ষ যেন তাকে বাধা না দেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। আগের দিনের ঘটনা ভুলে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর কথাও বলেন স্পিকার এবং রুমিন ফারহানার বক্তব্যের অনুভূতিকে সম্মান জানান।

Advertisements

এরপর রুমিন ফারহানা বলেন, সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্য—সবার মত আলাদা হতে পারে। সেই ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার প্রত্যেক সংসদ সদস্যের থাকা প্রয়োজন।

২০১৮ সালের সংসদের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে রুমিন ফারহানা বলেন, সে সময় আওয়ামী লীগের সংসদে বিএনপির পক্ষে কথা বলার সময়ও তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এরপর পরিবর্তনের আশায় মানুষ ভোট দিয়েছে; কিন্তু সংসদে ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না এলে বিরোধী দলের সদস্যদের শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা।

তিনি বলেন, র‍্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে যেমন আলোচনা ও ঐকমত্য ছিল, তেমনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও বাহিনীটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নতুন যে সংস্থা গঠন করা হচ্ছে, সেটি যেন শুধু পোশাক ও নাম পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে—এমন সতর্কতাও দেন তিনি। নতুন বাহিনীর তদন্তব্যবস্থা, আটক ও আটকাদেশের মতো বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় স্পিকার তাকে মনে করিয়ে দেন, তখন সংসদে এপিবিএন নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এসআরবি বিল ইতোমধ্যে পাস হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে রুমিন ফারহানা বলেন, বিভিন্ন সময়ে মানুষকে হয়রানি, নির্যাতন ও ভয়ের মধ্যে থাকতে দেখেছেন তারা। ভবিষ্যতে কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ দেখতে চান না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সংসদে থাকা সব রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। পুলিশ, র‍্যাব কিংবা অন্য যেকোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী যেন দলীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে আইন ও শৃঙ্খলা মেনে দায়িত্ব পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের জবাব দিতে তিনি আগ্রহী নন।

তিনি বলেন, আগের দিন যে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেটি ছিল অর্থমন্ত্রীর উত্থাপিত ব্যাংক রেজুল্যশন-সংক্রান্ত বিল। বিলটির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এমন কিছু বিষয় সেখানে আলোচনায় আসায় প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Advertisements