Skip to content

২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ওয়াসফিয়ার কে-টু জয়ে, নারীশক্তির জয়গান

নারীরা আজ কোনো দিক দিয়েই পিছিয়ে নেই। পথের হাজারো কাঁটা উপড়ে ফেলে আপন গতিতে এগিয়ে যান নারীরা। হোক তা মহাকাশ জয় কিংবা এভারেস্ট জয়, নারীর নিজের স্বপ্ন পূরণে কোনো আপস নয়। এমনটা আবারও প্রমাণ করলেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেছিলেন তিনি। এবার প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত জয়ের রেকর্ড যোগ করলেন তার ঝুলিতে।

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ পাকিস্তানের গিলগিট বাল্টিস্তানে অবস্থিত শৃঙ্গ গড-উইন অস্টিন বা কে-টু চূড়া। গত ১৭ জুলাই (রবিবার) কে-টু চূড়ায় ওঠার জন্য রওনা দেন ওয়াসফিয়া। ২২ জুলাই (শুক্রবার) সকালে পর্বতের চূড়া জয় করেন তিনি।এই যাত্রায় তার সঙ্গী ছিলেন বিশ্বের কয়েকজন বিখ্যাত পবর্তারোহী। এর মধ্যে রয়েছেন মিংমাতেঞ্জি শেরপা, মিংমা ডেভিড শেরপা ও নির্মল পুরজা।

কে-টু চূড়ার উচ্চতা ২৮ হাজার ২৫১ ফুট। কে-টু মাউন্ট এভারেস্টের থেকে প্রায় ৮০০ ফুট নিচু। অনেকেই হয়তোবা ভাবছেন এভারেস্ট জয়ী ওয়াসফিয়ার কাছে এ তো বা হাতের খেল। তবে বিষয়টি এতোটা সহজও নয়। এভারেস্টের চেয়ে কে-টুর চূড়ায় আরোহণ করা আরও বেশি কঠিন। কারণ, কে-টু পিরামিড আকৃতির। শুধু যে কঠিন তা নয়, পর্বতারোহণের জন্য কঠিন অস্থির আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হয় পর্বতারোহীদের। এই কে-টু পর্বতকে বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক পর্বতও বলা হয়। কে-টু বিশ্বব্যাপী ‘স্যাভেজ মাউন্টেন’ নামেও পরিচিত।

কে-টু জয় করতে গিয়ে অনেক পর্বতারোহী প্রাণ হারিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পর্বতের চূড়ায় পৌঁছাতে প্রতি চার জনের মধ্যে একজন জীবন হারায়। প্রথমত পর্বতটি খাড়া হওয়ার কারণে পর্বতারোহীদের আরোহণের সময়ই প্রচুর বেগ পেতে হয় এবং অনেকেই ভারসাম্য বজায় রাখতে না পেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ন। আবার এর চূড়ায় ওঠার পরও তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে অনেক আরোহী মৃত্যুবরণ করেন। মোদ্দা-কথা কে-টু জয় করে ফিরে আসা মুখের কথা নয়। তবে তা সম্ভব করে দেখিয়েছেন এভারেস্টজয়ী এই নারী।

১৯৫৪ সাল থেকে মাত্র ৪২৫ জন এর চূড়ায় উঠেছেন, যার মধ্যে ২০ জন নারী। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ওয়াসফিয়া নাজরীনের সঙ্গে কে-টু জয় করেছেন ইরানি আফসানেহ হেসামিফার্ড, লেবানিজ-সৌদি নাগরিক নেলি আত্তার ও পাকিস্তানের নাগরিক সামিনা বেগ। প্রত্যেকেই নিজ নিজ দেশের প্রথম নারী পর্বতারোহী হিসেবে কে-টু জয় করেছেন।

২০১২ সালের ২৬ মে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে রেকর্ড করেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ (সেভেন সামিট) জয় করা প্রথম বাংলাদেশির খেতাবও রয়েছে তার ঝুলিতে। এবার কে-টু জয় করে বিশ্ব-দরবারে আরও একবার বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করলেন ওয়াসফিয়া। ওয়াসফিয়ার এ জয়ে নারীশক্তির জয়গান শোনা যাচ্ছে চারদিকে। নারীদের জন্য ওয়াসফিয়া নাজরীন এক অনুপ্রেরণার নাম।

অনন্যা / জেএজে