বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

দীর্ঘ ফ্লাইটে পোশাক বদলাবেন কিনা এ বিষয়ে কী বলেন বিশেষজ্ঞরা

399-SM1113649

দীর্ঘ সময়ের ফ্লাইট মানেই একঘেয়ে বসে থাকা, খাবার খাওয়া, একটু ঘুম আর বারবার অবস্থান বদলানো। এমন যাত্রায় অনেকে পোশাক পরিবর্তনকে বাড়তি ঝামেলা ভাবেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন একটু ফ্রেশ হয়ে নেওয়া মানেই স্বস্তি। তাহলে প্রশ্ন হলো দীর্ঘ ফ্লাইটে পোশাক বদলানো কি আসলেই দরকারি?

পোশাক বদলানো কি ভদ্রতার অংশ?

‘এটিকেট এক্সপার্ট’ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা জো হেইস মনে করেন। এটি ভদ্রতা ও ব্যক্তিগত যত্নেরই একটি অংশ। তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের ও আশপাশের মানুষদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নিজেদের পরিচ্ছন্ন রাখতে পারি।”
জো সাধারণত ১০ ঘণ্টার বেশি ফ্লাইটে সঙ্গে রাখেন অতিরিক্ত এক জোড়া ট্রাউজার, একটি টপ, দুই জোড়া মোজা ও একটি আন্ডারওয়্যার। লে-ওভার বা বাথরুমে তিনি পোশাক পরিবর্তন করে নেন। সঙ্গে রাখেন একটি ছোট টয়লেট্রিজ কিট। যাতে থাকে টুথব্রাশ, ময়শ্চারাইজার, ডিওডোরেন্ট ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস।

ভাঁজবিহীন পোশাকই ভালো

Advertisements

‘ওয়াইল্ড ফ্রন্টিয়ার্স’-এর ক্লেয়ার টোবিন ও অতিরিক্ত পোশাক নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে তিনি বলেন, এমন কাপড় বেছে নিতে হবে যাতে সহজে ভাঁজ না পড়ে এবং দ্রুত পরে নেওয়া যায়।
তাঁর পরামর্শ বিমানের বাথরুমে পোশাক বদলাতে গিয়ে যেন কেউ বেশি সময় না কাটান। কারণ তা অন্য যাত্রীদের জন্য বিরক্তিকর হতে পারে।

সবই নির্ভর করে ব্যক্তিগত পছন্দে

‘এলিভেট এটিকেট’-এর অ্যালিসন চেপারডাক অবশ্য একটু ভিন্ন মত দেন। তাঁর মতে পোশাক বদলানো ভদ্রতার নয় বরং এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। কেউ চাইলে বদলাতে পারেন না চাইলে নয়।

দীর্ঘ ফ্লাইটে আরামদায়ক থাকার কিছু টিপস

আরামদায়ক কাপড় বেছে নিন

দীর্ঘ সময় বসে থাকার জন্য এমন পোশাক পরুন যা হালকা ও শ্বাস নিতে দেয়। কটন, লিনেন, মডাল বা সিল্কের কাপড় উপযুক্ত। এগুলো ঘাম শোষণ করে এবং আরাম বজায় রাখে।

ঢিলেঢালা পোশাকই সেরা

টাইট পোশাক রক্ত চলাচলে বাধা দেয়। তাই ইলাস্টিক বা ড্রস্ট্রিংযুক্ত প্যান্ট, লেগিংস, ওভারসাইজ টপ এসব পরতে পারেন। এতে চলাফেরা সহজ হয়।

স্তরযুক্ত পোশাক পরুন

বিমানের তাপমাত্রা কখন ঠান্ডা, কখন গরম বলা মুশকিল। তাই একাধিক স্তরে পোশাক পরুন। হালকা টি-শার্টের ওপর কার্ডিগান বা সোয়েটার রাখলে প্রয়োজনমতো খুলে ফেলতে পারবেন।

পায়ের আরাম জরুরি

বিমানবন্দরজুড়ে হাঁটাহাঁটি, লাইনে দাঁড়ানো, লাগেজ টানা সব মিলিয়ে আরামদায়ক জুতা পরা জরুরি। স্লিপ-অন বা হালকা স্নিকার্স সবচেয়ে ভালো বিকল্প। পায়ের ফুলে যাওয়ার আশঙ্কা মাথায় রেখে ফ্লেক্সিবল জুতা বেছে নিন।

সঙ্গে রাখুন দরকারি অনুষঙ্গ

একটি শাল বা ট্রাভেল র‍্যাপ হতে পারে যাত্রার সঙ্গী। প্রয়োজনে উষ্ণ রাখবে আবার বালিশ হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। আর একটি ছোট ক্রস-বডি ব্যাগ আপনার হাত রাখবে ফাঁকা ও জিনিসপত্র রাখবে নিরাপদে।

দীর্ঘ ফ্লাইটে পোশাক পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে এটি আপনাকে সতেজ, স্বস্তিদায়ক ও আত্মবিশ্বাসী রাখতে সাহায্য করে। তাই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আপনার আরামের জন্য যেটি ভালো লাগে সেটিই বেছে নিন।

Advertisements