১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
জীবনযাপন

সপ্তাহের ঘুমের ঘাটতি পূরণে ছুটির দিনের বাড়তি ঘুম কতটা কার্যকর ?

do-you-know-that-sleep-can-mpmdsz0cyczi13z-20260526143923

সারা সপ্তাহের ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর ঘুমের অনিয়মের পর ছুটির দিন এলেই অনেকের প্রথম ইচ্ছা থাকে—আরেকটু ঘুমানো। কর্মব্যস্ত দিনে যেখানে ছয় ঘণ্টা বা তারও কম ঘুম হয়, সেখানে ছুটির দিনে বিছানায় অতিরিক্ত দুই–তিন ঘণ্টা কাটানো যেন শরীরের কাছে ছোট্ট এক উপহার। আর এই বাড়তি ঘুমকে শুধু আলসেমি বলে উড়িয়ে দেওয়ারও কারণ নেই।

সাম্প্রতিক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, সপ্তাহের কর্মদিবসে ঘুমের ঘাটতি থাকলে ছুটির দিনে কিছুটা বেশি ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত ছয় ঘণ্টা বা তার কম ঘুমান, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বাড়তি ঘুম শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ছুটির দিনে ঘুম বাড়ালেও তা যেন নিয়মিতভাবে ৯–১০ ঘণ্টার বেশি না হয়। নারী ও পুরুষ—উভয়ের ক্ষেত্রেই এসব উপকার প্রযোজ্য হতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক

ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কর্মদিবসে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ছুটির দিনে কিছুটা অতিরিক্ত ঘুম শরীরকে সেই ঘাটতি সামলে নেওয়ার সুযোগ দিতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ছুটির দিনের বাড়তি ঘুমের সঙ্গে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে—কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি প্রায় ১৯ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
তবে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো অভ্যাস হলো প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম। অর্থাৎ প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই ধরনের সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করা।

অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রবণতা কমাতে পারে

ঘুম কম হলে শুধু চোখেই ক্লান্তি আসে না, বদলে যেতে পারে খাবারের অভ্যাসও। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে অনেকের জাংক ফুড, ভাজাপোড়া, মিষ্টি কিংবা কোমল পানীয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে ওজন বৃদ্ধি ও ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।

Advertisements

ছুটির দিনে বাড়তি দুই–তিন ঘণ্টা ঘুম তাই শরীরের ঘুমের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করার পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

স্মৃতি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব

ঘুম শুধু বিশ্রামের সময় নয়; এ সময় মস্তিষ্ক দিনের নানা তথ্য ও অভিজ্ঞতা প্রক্রিয়াজাত করে। সপ্তাহজুড়ে কাজ, পড়াশোনা, দায়িত্ব ও নানা মানসিক চাপ সামলানোর পর ছুটির দিনের অতিরিক্ত ঘুম মস্তিষ্ককে কিছুটা বাড়তি বিশ্রামের সুযোগ দিতে পারে।
যাঁরা কর্মদিবসে গড়ে ছয় ঘণ্টা ঘুমান, তাঁরা ছুটির দিনে দুই–তিন ঘণ্টা বেশি ঘুমালে সপ্তাহের মোট ঘুমের পরিমাণ কিছুটা ভারসাম্যে আসতে পারে। এতে স্মৃতি গুছিয়ে নেওয়া, মনোযোগ ধরে রাখা এবং পরবর্তী সপ্তাহের কাজের পরিকল্পনা করতে সুবিধা হতে পারে।

ক্লান্তি ও মানসিক চাপ কমায়

সপ্তাহের ব্যস্ততায় শরীরের পাশাপাশি মনও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ঘুমের ঘাটতি সেই ক্লান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ছুটির দিনে একটু বেশি ঘুম শরীরকে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দেয় এবং মানসিক চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করে।
ফলে নতুন সপ্তাহ শুরু করার আগে নিজেকে তুলনামূলকভাবে সতেজ ও মানসিকভাবে প্রস্তুত মনে হতে পারে। ব্যক্তিগত জীবন কিংবা কর্মক্ষেত্রে আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ওজন ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

ঘুমের সঙ্গে শরীরের বিপাকক্রিয়া, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে এসব স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি, প্রয়োজন হলে ছুটির দিনে অতিরিক্ত কিছুটা ঘুম শরীরকে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে।

তবে ছুটির দিনের বাড়তি ঘুমকে সারা সপ্তাহের অনিয়মিত ঘুমের বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী হলো প্রতিদিন পর্যাপ্ত, নিয়মিত ও মানসম্মত ঘুম। ছুটির দিনে দুই–তিন ঘণ্টা বেশি ঘুম তাই হতে পারে ঘুমের ঘাটতি সামলানোর একটি সহায়ক উপায়—কিন্তু নিয়মিত ঘুমের বিকল্প নয়।

Advertisements