বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬
বিনোদন

স্টেজ-জিরো ফুসফুস ক্যান্সার জয় করলেন শর্মিলা ঠাকুর

2-1760344002

২০২৩ সাল। ভারতের চলচ্চিত্র জগতের এক উজ্জ্বল নাম শর্মিলা ঠাকুর সেই সময় সামনে আনেন একটি ব্যক্তিগত ও গভীর সত্য—তিনি ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। খবরটি যেন বজ্রাঘাতের মতো নেমে আসে পরিবার ও অনুরাগীদের ওপর। কিন্তু আজ, এক বছরেরও বেশি সময় পর, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। আর তার এই সুস্থ হয়ে ওঠার গল্প আশার আলো ছড়ায় অন্য অনেকের জন্য।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলার মেয়ে, অভিনেত্রী সোহা আলি খান খোলামেলা কথা বলেন সেই সংকটময় সময় নিয়ে। নায়নদীপ রক্ষিতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোহা বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় ভয় হলো প্রিয়জনদের হারানো। জীবনের অনেক কিছু সামলানো যায়, কিন্তু প্রিয়জন হারানোর শঙ্কা আমাকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়ায়।”

এই ভয়ের পেছনে রয়েছে এক বাস্তব অভিজ্ঞতা, যখন তার মা শর্মিলা ঠাকুরের ফুসফুস ক্যান্সার ধরা পড়ে। তবে ভাগ্য সহায় ছিল, কারণ এটি ছিল ‘স্টেজ-জিরো’ ক্যান্সার, অর্থাৎ একেবারে শুরুর পর্যায়ে ধরা পড়ে।

সোহার ভাষায়, “মায়ের অসুস্থতা পুরো পরিবারকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, যেন সবকিছু ভেঙে পড়ছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সময়মতো রোগটা শনাক্ত হয়েছিল। এজন্যই হয়তো আজ মা সুস্থ আছেন।”

Advertisements

চিকিৎসার প্রসঙ্গে সোহা জানান, কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয়নি। শুধু অস্ত্রোপচার করে ক্যান্সার কোষগুলো অপসারণ করা হয়।
“আমার মা সৌভাগ্যবান, কারণ খুব প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি ধরা পড়েছিল। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ,” বলেন সোহা।

চিকিৎসকদের মতে, স্টেজ-জিরো ফুসফুস ক্যান্সার একটি অত্যন্ত বিরল অবস্থা, যেখানে অস্বাভাবিক কোষগুলো শুধু ফুসফুসের অভ্যন্তরীণ আস্তরণেই থাকে, শরীরের অন্য কোথাও ছড়ায় না। ফলে যদি সময়মতো ধরা পড়ে, তাহলে চিকিৎসাও সহজ এবং রোগমুক্তির সম্ভাবনাও অনেক বেশি।

শুধু শর্মিলার নয়, সোহা আলি খানের পরিবারে শ্বাসজনিত সমস্যার একটি ইতিহাস রয়েছে। তার বাবা, বিখ্যাত ক্রিকেটার মানসুর আলি খান পতৌদি ২০১১ সালে ফুসফুসজনিত জটিলতায় মারা যান।

স্মৃতি ও বাস্তবতার মিশেলে গড়া এই অভিজ্ঞতা আজ সোহাকে আরও সংবেদনশীল করেছে। ফুসফুস ক্যান্সার যে সময়মতো ধরা পড়লে রক্ষা পাওয়া সম্ভব—এই বার্তাই যেন ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।

Advertisements