১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বিনোদন

জাতীয় পুরস্কারজয়ী পপি কেন দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার বাইরে?

popy-1758967845

‘নায়িকা’ শব্দটি শুনলে যে কজন অভিনেত্রীর মুখ দেশের দর্শকের চোখে ভেসে ওঠে, তাদের অন্যতম সাদিকা পারভীন পপি। রূপ, অভিনয় ও পর্দায় উপস্থিতির মাধ্যমে নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে দীর্ঘ সময় ঢালিউডে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। একসময় তার জনপ্রিয়তায় মুগ্ধ ছিল পুরো চলচ্চিত্রাঙ্গন।

আজ এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৭৯ সালের এই দিনে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন পপি। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার পুরো নাম সাদিকা পারভীন পপি। পড়াশোনার শুরুটাও খুলনাতেই।

পপি যখন নবম শ্রেণির ছাত্রী, তখন পত্রিকায় প্রকাশিত ‘লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী’ প্রতিযোগিতার বিজ্ঞপ্তি দেখে তার কিছু ছবি নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠান তার মা। মায়ের উৎসাহেই শোবিজে পপির যাত্রা শুরু।

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পপিকে নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। স্কুলজীবন শেষ করে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় এসে ভর্তি হন লালমাটিয়া মহিলা কলেজে। পাশাপাশি খুঁজতে থাকেন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ।

একপর্যায়ে নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। তার হাত ধরেই চলচ্চিত্রে পপির অভিষেক। ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ সিনেমায় শাকিল খানের বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন তিনি। তবে মুক্তির দিক থেকে পপির প্রথম সিনেমা ছিল ‘কুলি’।

১৯৯৭ সালে পপির চারটি সিনেমা মুক্তি পায়। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমায় ওমর সানীর বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। সিনেমাটি সুপারহিট হওয়ার পর পপিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

একসময় একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডের প্রথম সারির নায়িকাদের একজন হয়ে ওঠেন পপি। ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’, ‘কে আমার বাবা’, ‘লাল বাদশা’ ও ‘ক্ষ্যাপা বাসু’র মতো সিনেমা তাকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

রুবেলের সঙ্গে পপির জুটিও দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এই জুটি প্রায় ২২টি সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। বেশিরভাগ সিনেমাই ছিল দর্শকপ্রিয়।

তবে শুধু বাণিজ্যিক সিনেমায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না পপি। ভিন্নধর্মী গল্প ও চরিত্রেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। ‘কারাগার’ সিনেমায় টোকাই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর স্বীকৃতি।

এরপর ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘রানীকুঠির বাকী ইতিহাস’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অভিনয়ক্ষমতার নতুন দিক তুলে ধরেন তিনি।

২০০৮ সালে নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘মেঘের কোলে রোদ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আবারও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান পপি। পরের বছর অহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের ‘গঙ্গাযাত্রা’ সিনেমায় অভিনয় করেও একই স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি।

ফলে বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি অভিনয়ের জন্যও পপি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের আলাদা অবস্থান।

ক্যারিয়ারের একসময় নিয়মিত পর্দায় দেখা গেলেও দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র থেকে দূরে রয়েছেন পপি। গণমাধ্যমের সামনেও তাকে খুব একটা দেখা যায় না। চলচ্চিত্রের বিভিন্ন আয়োজনেও তার উপস্থিতি নেই।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা কারণে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এলেও নিজের জীবন নিয়ে অনেকটাই নীরব রয়েছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি তার নামে ছড়ানো একটি ভুয়া মন্তব্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়। পরে পপি জানান, ওই মন্তব্য তার নয়।

বর্তমানে স্বামী-সন্তান ও সংসার নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন পপি। চলচ্চিত্র থেকে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি তাই জন্মদিনে ভক্তদের মনে ফিরিয়ে আনছে একসময়কার সেই জনপ্রিয় নায়িকাকে—যিনি একসময় ঢালিউডের পর্দায় নিজের অভিনয় ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ করেছিলেন অগণিত দর্শককে।

Advertisements