বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
বিনোদন

জীবন মানেই সংগীতের সাধনা — ফেরদৌস আরা

ferdous-ara-1760254868

আজ প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ফেরদৌস আরার জন্মদিন। দিনটি তিনি কাটান ভালোবাসায় ঘেরা পরিবেশে—ভক্ত-শ্রোতা, সুরসপ্তকের শিক্ষার্থী এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। তাঁর কাছে জন্মদিন মানে কৃতজ্ঞতার দিন। “আমি ভাবি, এত বছর গান গাইতে পেরেছি, মানুষ শুনেছে, ভালোবেসেছে—এর চেয়ে বড় আশীর্বাদ আর কী হতে পারে!”—বললেন তিনি।

শৈশব থেকেই জন্মদিন ছিল তাঁর জন্য আনন্দের উপলক্ষ। “আমরা চার বোন ও এক ভাই। আমি ছিলাম সবার ছোট। ভাইয়ের জন্মদিনে যেমন আয়োজন হতো, আমারটা ভোলা যেত না কখনো। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, সবার আসা-যাওয়া থাকত,” reminisces ফেরদৌস আরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় শিক্ষার্থীদের সারপ্রাইজ আয়োজনও তাঁর জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল। ২০০০ সালে নিজের সংগীত বিদ্যালয় সুরসপ্তক প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় ভরা আয়োজনেই কেটেছে প্রতি জন্মদিন।

নিজের জন্য কামনা কেবল একটাই—যতদিন বাঁচবেন, গান গেয়ে যাবেন। “সুরের ভেতরেই আমি বেঁচে আছি। গানই আমার প্রাণ, আমার আশ্রয়।”

সন্তানদের ভালোবাসায় ভরা এক স্মৃতি তাঁর মনে আজও উজ্জ্বল। এক জন্মদিনে তিনি ছিলেন কানাডায়। “ওরা বলল, ‘চলো বাইরে যাই।’ একটু পর দেখি রাস্তায় স্ট্রিট শিল্পীরা আমার নাম ধরে গান গাইছে! বুঝলাম, আগেই ব্যবস্থা করে রেখেছে ওরা। একজন মা হিসেবে সেটি আমার জীবনের অমূল্য মুহূর্ত।”

Advertisements

প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁর জন্মদিনে টেলিভিশনে বিশেষ আয়োজন থাকছে। সকালে চ্যানেল আইয়ের ‘গানে গানে সকাল শুরু’ অনুষ্ঠানে সুরসপ্তকের শিক্ষার্থীরা গান পরিবেশন করবে, দুপুরে তিনি অংশ নেবেন তারকাকথন-এ।

গানের পথচলার শুরু তাঁর ছোটবেলায়। “তখন বুঝতাম না, গান শুধু বিনোদন নয়, এটা এক সাধনা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছি, সংগীতই আমার জীবনের ঠিকানা।”

এখনকার তরুণ প্রজন্মের সংগীতচর্চা তাঁকে আশাবাদী করে। “সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু ভালো সুর ও কণ্ঠের মূল্য চিরন্তন। অনেক তরুণ এখন শাস্ত্রীয় সংগীতে আগ্রহী হচ্ছে, এটা আনন্দের। তবে অনুশীলনের জায়গাটা আরও গভীর হওয়া দরকার।”

দীর্ঘদিনের শিক্ষক ফেরদৌস আরার পরামর্শ—“সংগীত শুধু শেখার বিষয় নয়, এটি বেঁচে থাকার পথ। অনুশীলন, শৃঙ্খলা আর শ্রদ্ধা—এই তিনটি মেনে চললে সাফল্য একদিন আসবেই।”

সবশেষে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—মানুষের ভালোবাসা। “আমার গান যদি কারও মন ছুঁয়ে যায়, সেটিই আমার সাফল্য। পুরস্কার আসবে যাবে, কিন্তু শ্রোতার মমতাই শিল্পীর জীবনের আসল প্রাপ্তি।”

সংগীতশিল্পী না হলে কী হতেন? হেসে বলেন, “হয়তো খেলোয়াড় বা নৃত্যশিল্পী। মা-বাবা চেয়েছিলেন ডাক্তার বানাতে, সেটি হয়নি। তবে যে পথেই যেতাম, সফল হতাম। গান, নাচ, খেলাধুলা—সব জায়গাতেই ছিলাম প্রথম। কিন্তু গানই থেকে গেছে আমার সারাজীবনের সঙ্গী।”

Advertisements