পদ্মার নাতনি ‘সন্ধ্যার’ কোলের ইলিশ

এককালে সাগরের ইলিশ বললেই অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিতেন। তখন নদীর ইলিশ ছিল স্বাদ ও গন্ধের রাজা। তবে সময় বদলেছে ! এখন সাগরের ইলিশও কম নয়, বেশিরভাগ সময়েই বাড়ন্ত। তবুও যদি সাহস করে সত্যি কথাই বলতে হয়, তবে নদীর ইলিশই ইলিশের শ্রেষ্ঠ পরিচয়। বিশেষ করে পদ্মা, তেঁতুলিয়া আর সন্ধ্যার ইলিশ।
‘সন্ধ্যা নদী’ বরিশালের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া অপার এক জলরেখা। আড়িয়াল খাঁর মেয়ে এই সন্ধ্যা ৬০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এসে মিশেছে কচা নদীতে।যেহেতু আড়িয়াল খাঁ পদ্মার সন্তান, সেই হিসেবে সন্ধ্যা তো পদ্মারই নাতনি! আর ইলিশ যদি পদ্মার ঐতিহ্য হয়ে থাকে, তবে নাতনির কোলেও তার রূপ ধরা দেবে, তাতে আর আশ্চর্য কী?
প্রতিবছর ঘুরে আসা হয় বরিশাল, পিরোজপুর আর ঝালকাঠির নদীবেষ্টিত জলাভূমির অঞ্চলগুলোতে। এবারের গন্তব্য ছিল বানারীপাড়া সন্ধ্যা নদীর শান্ত তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এক চমৎকার জনপদ। সঙ্গে ছিল কিছু ঘনিষ্ঠ বান্ধবী।
নাও ভাসতেই চোখে পড়ল মান্তা সম্প্রদায়ের ভাসমান নৌকাবহর। সঙ্গেই ফিরছিল কিছু ইলিশ ধরা জেলেনৌকাও। আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু মুখে ইলিশের কথা তুলতেই জেলেদের চোখেমুখে একরকম অসহায়ত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠল। তারা পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে ফড়িয়াদের ওপর। নিজেদের ধরা মাছ বিক্রির স্বাধীনতাটুকুও আজ আর তাদের নেই।
জেলেদের সঙ্গে গিয়েই সেই একই মাছ কিনতে হলো ফড়িয়ার কাছ থেকে। সোয়া এক কেজির একটি ইলিশ দাম পড়ল আড়াই হাজার টাকা। তবে যেই মাছ হাতে নিলাম, আহা! সে কী তার রূপ! রুপালি দেহে জলছবির মতো ঝিলিক, চোখের চারপাশে কালি টানা সৌন্দর্যের রেখা যা কেবলই নদীর ইলিশের বৈশিষ্ট্য।এ এক রাজকীয় চাহনি, যার দিকে তাকিয়ে থাকলেও মন ভরে না। স্বাদ? সে তো আর আলাদা করে বলার নয়।



