১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সোমবারবাংলা: ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
ভ্রমণ

মালদ্বীপকে পেছনে ফেলে পর্যটকদের নজরে ইন্দোনেশিয়ার যে রহস্যময় দ্বীপ

overwater-bungalows-at

মালদ্বীপের বিলাসী রিসোর্টের বিকল্প হিসেবে ধনী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ভ্রমণকারীদের নজর কাড়ছে ইন্দোনেশিয়ার নির্জন বাওয়াহ দ্বীপ। রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের ছয়টি দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা বাওয়াহ মূলত নির্জনতা, প্রকৃতি ও বিলাসিতার সমন্বয়ে তৈরি একটি ব্যক্তিগত দ্বীপভিত্তিক অবকাশকেন্দ্র।

বাওয়াহর অন্যতম আকর্ষণ সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণ। রিসোর্টের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীরা বিভিন্ন দ্বীপ থেকে কচ্ছপের ডিম সংগ্রহ করে নিরাপদ স্থানে রাখেন। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে অতিথিদের ফোনে বার্তা পাঠানো হয়। এরপর অনেকেই রাতের খাবার বা অন্যান্য আয়োজন ছেড়ে সৈকতে ছুটে যান কচ্ছপের সাগরে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে।

কীভাবে যেতে হয়

বাওয়াহ ভ্রমণও সাধারণ দ্বীপভ্রমণের মতো নয়। যাত্রা সাধারণত সিঙ্গাপুর থেকে শুরু হয়। সেখান থেকে ফেরিতে ইন্দোনেশিয়ার বাতাম দ্বীপে পৌঁছে ব্যক্তিগত জলবিমানে প্রায় ৭৫ মিনিট উড়ে বাওয়াহতে যেতে হয়। জলবিমানে যাত্রীসংখ্যা সীমিত এবং প্রত্যেক অতিথির মালপত্রও সর্বোচ্চ ১৫ কেজির মধ্যে রাখতে হয়।

কত খরচ?

এই নির্জন বিলাসিতার দামও বেশ চড়া। সবচেয়ে সাধারণ স্যুটের ভাড়া শুরু প্রায় ১,৯৮০ ডলার থেকে। কমপক্ষে তিন রাত থাকতে হয়। এর মধ্যে খাবার ও একটি স্পা সেবা অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে বিলাসবহুল চার শয়নকক্ষের স্যুটের ভাড়া ভরা মৌসুমে প্রায় ১২,৩০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

অতিথিরা চাইলে আরও অর্থ খরচ করে ব্যক্তিগত সৈকতভোজ কিংবা পুরো একটি দ্বীপও ভাড়া নিতে পারেন।

শুধু আরাম নয়, আছে অ্যাডভেঞ্চারও

বাওয়াহর বিশেষত্ব হলো এখানে শুধু সমুদ্রের পাশে বসে থাকার সুযোগ নয়, বরং নানা কর্মকাণ্ডের আয়োজনও রয়েছে। স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, খোলা সাগরে সাঁতার, কায়াকিং, যোগব্যায়াম এবং কফি ও সুগন্ধি তৈরির কর্মশালার মতো আয়োজন থাকে।

রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের ভাষায়, এটি এমন ভ্রমণকারীদের জন্য, যারা মালদ্বীপের মতো বিলাসিতা চান, কিন্তু তার সঙ্গে প্রকৃতি, অ্যাডভেঞ্চার ও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতাও চান।

সব মিলিয়ে, বাওয়াহ রিজার্ভের মূল আকর্ষণ শুধু দামি স্যুট বা ব্যক্তিগত সৈকত নয়—বরং পৃথিবীর কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি কয়েকটি দিন কাটানোর সুযোগ।

Advertisements