ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ, আরও ৮ জনের মৃত্যু

চলতি বছর ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ১৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৪৩ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৩ দিনে ৬০ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনে জানানো হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৩৩ জন ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৫৭০ জনে।
একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ২৮২ জন। এ পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭০১ জন। এছাড়া খুলনায় ৩০২ জন, বরিশালে ১৯১ জন, চট্টগ্রামে ১৯১ জন, ময়মনসিংহে ১১০ জন, রংপুরে ৮৬ জন এবং রাজশাহীতে ৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছর দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ এলাকায় এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৭২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর রয়েছে খুলনা বিভাগ, যেখানে রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৬৭৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন এবং জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। আগস্টে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫৩৬ জনে। আর চলতি সেপ্টেম্বরের ১৪ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৪২৪ জন।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞরা এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশা নিধন এবং বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



