অতিরিক্ত শব্দে স্থায়ীভাবে কমতে পারে শ্রবণশক্তি

অতিরিক্ত মাত্রার শব্দের সংস্পর্শে দীর্ঘ সময় থাকলে কানের শ্রবণকোষ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে, যাকে বলা হয় শব্দ-প্ররোচিত শ্রবণশক্তি হ্রাস।
কারখানার ভারী যন্ত্রপাতি, নির্মাণকাজ ও উচ্চ শব্দের সরঞ্জাম ব্যবহারের পাশাপাশি মাইক, শুটিং, ডিস্কো, ব্যক্তিগত স্টেরিও এবং গাড়ির হর্ন থেকেও অতিরিক্ত শব্দের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় এসব শব্দের মধ্যে থাকলে কানের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
যেভাবে কানে ক্ষতি করে
৯০ ডেসিবেলের বেশি মাত্রার শব্দ কানের ভেতরের কক্লিয়ায় ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটাতে পারে। শুরুতে কক্লিয়ায় বিপাকীয় ক্লান্তি দেখা দেয়। বারবার ও দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে এলে কানের বাইরের হেয়ার কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
কক্লিয়ায় এসব হেয়ার কোষ সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে। অতিরিক্ত শব্দের প্রভাবে প্রথমে বাইরের সারির কোষ, পরে ধীরে ধীরে ভেতরের সারির কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে এর প্রভাব স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাসে রূপ নিতে পারে।
লক্ষণ ও বৈশিষ্ট্য
উচ্চ শব্দের সংস্পর্শের পর সাময়িকভাবে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা কানে ঝিঁঝিঁ শব্দ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটিকে অস্থায়ী থ্রেশহোল্ড শিফট (টিটিএস) বলা হয়।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের শব্দের প্রভাবে স্থায়ী থ্রেশহোল্ড শিফট (পিটিএস) হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে এর কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি কথা বোঝার ক্ষমতাও হ্রাস পেতে পারে।
শব্দজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাসের ক্ষেত্রে কানের পর্দা স্বাভাবিক দেখাতে পারে। তবে শ্রবণ পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে কানের শ্রবণক্ষমতার ক্ষতি শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রতিরোধে করণীয়
উচ্চ শব্দের পরিবেশ এড়িয়ে চলাই শব্দজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাস প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত শব্দ থাকলে যথাযথ ইয়ারপ্লাগ বা অন্যান্য শ্রবণ সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা উচিত।
একই সঙ্গে গাড়ির অপ্রয়োজনীয় হর্ন, উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার এবং অন্যান্য শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সরকারি বিধিমালা ও তার বাস্তবায়ন জরুরি।
দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের মধ্যে কাজ বা অবস্থান করলে নিয়মিত শ্রবণ পরীক্ষা করানো এবং শব্দের মাত্রা কমানোর ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।



