২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
খাবার-দাবার

সবজি না খাওয়া শিশুর জন্য মজার কয়েকটি রেসিপি

vegetable-samakal-6450b6b0d0938

শিশুকে নিয়মিত সবজি খাওয়ানো অনেক সময় অভিভাবকদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়ায়। প্লেটে সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, খাবারের ভেতর থেকে সবজি আলাদা করে রাখা কিংবা একেবারেই খেতে না চাওয়া—এমন আচরণ অনেক শিশুর মধ্যেই দেখা যায়। তবে প্রতিদিন একইভাবে সবজি পরিবেশন না করে একটু ভিন্ন স্বাদ, আকৃতি ও রঙে খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দিলে শিশুর আগ্রহ বাড়তে পারে।

শিশুর পছন্দের খাবারের সঙ্গে সবজি যোগ করে তৈরি করা যায় বেশ কিছু সহজ ও মজাদার পদ। এতে আলাদা করে সবজি খাওয়ানোর চাপও কমে। বাড়িতে সহজে তৈরি করা যায় এমন কয়েকটি পদ থাকল তালিকায়।

বিট-গাজরের মুচমুচে কাটলেট

রঙিন খাবারের প্রতি শিশুদের আগ্রহ তৈরি করতে বিট ও গাজর দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে কাটলেট। প্রথমে আলু সেদ্ধ করে ভালোভাবে চটকে নিন। এর সঙ্গে কুরিয়ে রাখা বিট ও গাজর মিশিয়ে দিন। এবার সামান্য লবণ, কাঁচামরিচ কুচি, ধনেপাতা ও ভাজা মশলা দিয়ে মিশ্রণটি ভালোভাবে মেখে নিন।

মিশ্রণটি যেন সহজে আকার দেওয়া যায়, সেজন্য প্রয়োজনমতো বিস্কুটের গুঁড়া বা ব্রেডক্রাম্ব ব্যবহার করা যেতে পারে। ছোট ছোট গোল বা পছন্দের আকারে কাটলেট তৈরি করে অল্প তেলে তাওয়ায় দুই পাশ সোনালি করে ভেজে নিন। টিফিন কিংবা বিকেলের নাশতায় পরিবেশন করা যায়। শিশুর জন্য ঝাল কমিয়ে পছন্দের সস বা দইয়ের ডিপের সঙ্গে দেওয়া যেতে পারে।

লালশাক-পনিরের পুরভরা পরোটা

Advertisements

শিশু লালশাক খেতে না চাইলে সেটি পরোটার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। লালশাক ভাপিয়ে নরম করে নিন এবং অতিরিক্ত পানি ভালোভাবে ঝরিয়ে মিহি করে নিন। এবার আটার সঙ্গে লালশাক, সামান্য লবণ ও প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে নরম ডো তৈরি করুন। কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন।

অন্যদিকে পুর তৈরির জন্য কুরানো পনিরের সঙ্গে ধনেপাতা, সামান্য ভাজা মশলা ও লবণ মিশিয়ে নিন। আটার ছোট লেচির মধ্যে পনিরের পুর দিয়ে ভালোভাবে বন্ধ করে পরোটা বেলে নিন। তাওয়ায় অল্প তেল দিয়ে দুই পাশ সেঁকে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে রঙিন ও সুস্বাদু পরোটা। সঙ্গে টক দই বা শিশুর পছন্দের কোনো ডিপ দিতে পারেন।

সবজি মেশানো নরম অমলেট

ডিমের সঙ্গে সবজি মিশিয়ে দিলে অনেক শিশুর কাছে তা আলাদা করে সবজি খাওয়ার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে। গাজর, বাঁধাকপি ও পেঁয়াজ খুব মিহি করে কুরিয়ে নিন। এরপর ডিম ভালোভাবে ফেটিয়ে এর সঙ্গে সবজি, সামান্য লবণ ও অল্প গোলমরিচ মিশিয়ে নিন।

প্যানে সামান্য তেল দিয়ে মিশ্রণটি ঢেলে মাঝারি আঁচে রান্না করুন। এক পাশ হয়ে গেলে সাবধানে উল্টে অন্য পাশও ভালোভাবে সেঁকে নিন। অমলেটটি ছোট ছোট টুকরো করে শসা, রুটি বা শিশুর পছন্দের অন্য কোনো খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।

সবজি মেশানো চিজি স্যান্ডউইচ

স্যান্ডউইচ যদি শিশুর পছন্দের খাবার হয়, তাহলে এর ভেতরেও সহজেই সবজি যোগ করা যায়। গাজর, ক্যাপসিকাম, ভুট্টা বা সামান্য বাঁধাকপি মিহি করে কেটে নিন। পাউরুটির ওপর অল্প চিজ বা পনির দিয়ে তার সঙ্গে সবজিগুলো ছড়িয়ে দিন। দুই টুকরো পাউরুটি দিয়ে স্যান্ডউইচ তৈরি করে তাওয়ায় হালকা সেঁকে নিন।

চিজের স্বাদের সঙ্গে সবজি মিশে যাওয়ায় অনেক শিশুর কাছে এটি আলাদা করে সবজি খাওয়ার তুলনায় সহজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

সবজি মেশানো খিচুড়ি

ভাত বা খিচুড়ি খেতে শিশু আগ্রহী হলে তার মধ্যেও বিভিন্ন সবজি যোগ করা যায়। গাজর, মটরশুঁটি, লাউ, পেঁপে বা অন্য উপযোগী সবজি ছোট ছোট টুকরো করে চাল ও ডালের সঙ্গে রান্না করুন। খুব বেশি মশলা না দিয়ে স্বাভাবিক স্বাদে রান্না করলে এটি শিশুর জন্য সহজ ও পরিচিত খাবার হিসেবেও পরিবেশন করা যায়।

শিশুকে সবজি খাওয়ানোর সময় যা মনে রাখবেন

শিশু কোনো একটি সবজি প্রথমবার না খেলেই সেটি তার একেবারেই পছন্দ নয়—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একই সবজি কখনো রান্নায়, কখনো পরোটা, কাটলেট বা অমলেটের মতো ভিন্ন খাবারে ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে।

খাবারকে আকর্ষণীয় করতেও খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন রঙের সবজি দিয়ে ছোট ছোট আকার তৈরি করা, শিশুর পছন্দের প্লেটে খাবার পরিবেশন করা কিংবা রান্নার সময় বয়স উপযোগী হলে তাকে ছোটখাটো কাজে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে খাওয়ানোর সময় জোরাজুরি না করে ধীরে ধীরে নতুন খাবারের সঙ্গে পরিচিত করানোই ভালো।

শিশুর প্রতিদিনের খাবারে এক ধরনের সবজি না রেখে রঙ ও বৈচিত্র্য বদলে বিভিন্ন সবজি রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। এতে খাবারের একঘেয়েমি কমবে, আর শিশুরও নতুন স্বাদ ও খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

Advertisements