পানিতে হাত ভিজলে আঙুল কুঁচকে যায় কেন?

পানিতে কিছুক্ষণ হাত ভিজিয়ে রাখলেই আঙুলের চামড়া কুঁচকে যায়। বিষয়টি খুব সাধারণ হলেও এর পেছনের কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে কৌতূহল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিংহামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার গাই জার্মানও এমনই একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে গবেষণা শুরু করেন।
দ্য কনভারসেশনের ‘কিউরিয়াস কিডস’ সিরিজে এক পাঠক জানতে চেয়েছিলেন, পানিতে হাত ভিজিয়ে রাখলে ত্বক কুঁচকে যায় কেন। প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়ে গাই জার্মান ও তাঁর সহকর্মী র্যাচেল ল্যাটিন তিনজন স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে পরীক্ষা চালান। প্রথমে তাঁদের ৩০ মিনিট পানিতে হাত ভিজিয়ে রাখতে বলা হয়। এরপর কুঁচকে যাওয়া হাতের ছবি তোলা হয়। ২৪ ঘণ্টা পর একই ব্যক্তিদের আবার পানিতে হাত ভিজিয়ে আগের ছবির সঙ্গে নতুন ছবি তুলনা করা হয়। এতে দেখা যায়, দুই ক্ষেত্রেই আঙুলের কুঁচকানো রেখাগুলো প্রায় একই জায়গায় তৈরি হয়েছে।
আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, পানিতে ভিজে ত্বক ফুলে যাওয়ার কারণেই আঙুল কুঁচকে যায়। তবে ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, ত্বক ২০ শতাংশের বেশি ফুলে না উঠলে এমন বলিরেখা তৈরি হয় না। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যাদের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের হাত দীর্ঘ সময় পানিতে রাখলেও আঙুলের ত্বক একইভাবে কুঁচকে যায় না।
গবেষকদের মতে, পানির সংস্পর্শে ত্বকের বাইরের স্তরের সোডিয়াম আয়নের ঘনত্ব পরিবর্তিত হলে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে এর সংকেত পৌঁছায়। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আঙুলের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়। ফলে ত্বকের আয়তন কিছুটা কমে গিয়ে আঙুলে কুঁচকানো রেখা তৈরি হয়।
এই পরিবর্তন শুধু পানিতে ভেজার একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়া নয় বলেও মনে করেন গবেষকরা। তাঁদের ধারণা, কুঁচকে যাওয়া ত্বকের খাঁজকাটা রেখা ভেজা অবস্থায় কোনো বস্তু শক্তভাবে ধরতে বাড়তি সুবিধা দেয়। অর্থাৎ পানিতে থাকা অবস্থায় জিনিসপত্র ধরার ক্ষেত্রে এই সাময়িক পরিবর্তন আমাদের কাজে লাগতে পারে।
তবে কেন এই কুঁচকানো ত্বক সবসময় থাকে না, সে প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। গবেষকদের একটি ধারণা হলো, ত্বকের এমন সাময়িক পরিবর্তন হয়তো আঙুলের সংবেদনশীলতা কিছুটা কমিয়ে দেয়। এ কারণেই হয়তো শরীর প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প সময়ের জন্য এই পরিবর্তন ঘটায়।
গাই জার্মানের মতে, এই গবেষণার গুরুত্ব শুধু কৌতূহল মেটানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে আঙুলের ত্বকে যে পরিবর্তন হয়, তা সম্পর্কে ধারণা থাকলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকা মৃতদেহ শনাক্ত করার মতো ফরেনসিক তদন্তেও এটি কাজে লাগতে পারে।



