সরকারি চাকরি পেয়েই স্বামীকে তালাক

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় সরকারি চাকরি পাওয়ার পর স্ত্রী তালাক দিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেছেন এক প্রবাসী স্বামী। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উনকিলা গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী সাইফুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে জান্নাতুল ফেরদাউসের পারিবারিকভাবে ২০১৬ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের আগ থেকেই সাইফুল মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন। বিয়ের পরও জীবিকার প্রয়োজনে তিনি আবার মালয়েশিয়ায় চলে যান।
স্বামীর কাছে পড়াশোনার আগ্রহের কথা জানান জান্নাতুল। তার ইচ্ছা পূরণে সাইফুল তাকে একটি কলেজে ভর্তি করান। পরে সরকারি চাকরির প্রস্তুতির জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে কোচিং সেন্টারে ভর্তি করা হয়। প্রায় চার বছর ঢাকায় থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার পর ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী পদে চাকরি পান জান্নাতুল ফেরদাউস।
সাইফুলের দাবি, চাকরি পাওয়ার পর থেকেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে কাউকে না জানিয়ে গত ১ জুলাই দেশে ফেরেন তিনি। এরপর সরাসরি স্ত্রীর কর্মস্থলে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে কিছু সময় অপেক্ষা করার পর জান্নাতুল চলে যান বলে দাবি করেন সাইফুল।
পরে সাইফুল ঢাকায় না থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। বিষয়টি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানালে তারা পারিবারিকভাবে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে এর কয়েক দিনের মধ্যেই তার কাছে স্ত্রীর পাঠানো তালাকের নোটিশ পৌঁছে যায়।
এরপর নিজের অর্থ ও সম্পদের বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে চাঁদপুর আদালতে মামলা করেন সাইফুল ইসলাম। তার অভিযোগ, স্ত্রীর পড়াশোনা, কোচিংসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে তিনি দীর্ঘদিন অর্থ ব্যয় করেছেন।
সাইফুল বলেন, স্ত্রীর পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের জন্য তিনি সাধ্য অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন। তার উপার্জনের বড় একটি অংশ স্ত্রীর পেছনে ব্যয় করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে জান্নাতুল ফেরদাউসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ভাই ফয়সল আহমেদ বলেন, সাইফুল বিদেশে থাকাকালে তার বোনের খোঁজখবর রাখতেন না—এ কারণেই জান্নাত তালাকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তাদের অভিযোগ।
তবে ফয়সলও স্বীকার করেন, জান্নাতুলের পড়াশোনা, কোচিং, ঢাকায় বাসাভাড়া, থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন খরচ সাইফুলের অর্থেই হয়েছে।



