নারীর পাকস্থলী থেকে মিলল ১৪ কলম, ৫ কাঠের চামচ ও মোমবাতি

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে এক নারীর পাকস্থলী থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ২০টি অস্বাভাবিক বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকেরা। উদ্ধার হওয়া এসব জিনিসের মধ্যে রয়েছে ১৪টি কলম, পাঁচটি কাঠের চামচ এবং একটি মোমবাতি। এর মধ্যে একটি কলমের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। ঘটনাটি চিকিৎসকদেরও বিস্মিত করেছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের পালানাডু জেলার নারসারাওপেটের মাতাশ্রী প্রাইভেট হাসপাতালে ওই নারীকে নিয়ে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। পেটলুরিভারিপালেম গ্রামের বাসিন্দা ওই নারীর বুকে ব্যথা ও তীব্র অস্বস্তি হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা জানতে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষার একপর্যায়ে তার পাকস্থলীর ভেতরে কিছু অস্বাভাবিক বস্তু থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসক পি. রামচন্দ্র রেড্ডির নেতৃত্বে একটি সার্জারি দল ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই অস্ত্রোপচারে পাকস্থলী থেকে একে একে বের করে আনা হয় বিভিন্ন বস্তু। পরে চিকিৎসকেরা জানান, উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা কলমটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার।
অস্ত্রোপচারের পর বের করে আনা কলম ও অন্যান্য বস্তু নিয়ে প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও ঘটনাটির বিষয়টি সামনে আসে। উদ্ধার হওয়া একটি কলমের ঢাকনাও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, ধারালো বা শক্ত কোনো বস্তু এভাবে শরীরের ভেতরে অবস্থান করলে পাকস্থলীতে আঘাত বা অন্য ধরনের জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।
তবে কীভাবে ওই নারী এতগুলো কলম, কাঠের চামচ ও মোমবাতি গিলে ফেলেছেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। চিকিৎসক রামচন্দ্র রেড্ডিও জানিয়েছেন, এতগুলো বস্তু কীভাবে তার পাকস্থলীতে পৌঁছেছে, তা তাদের কাছে পরিষ্কার নয়।
ওই নারীর বাবা জানিয়েছেন, তার মেয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে চলে যান।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে ওই নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।



