১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
স্পটলাইট

সব ধরনের আটা-ময়দার দাম বেড়েছে, কমেনি মুরগি ও ডিমের দাম

Screenshot-2025-10-31-074154

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও বাড়ল আটা ও ময়দার দাম। খোলা কিংবা প্যাকেটজাত—দুই ধরনের পণ্যই আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও বেশ কিছুদিন ধরে চড়া রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় এসব পণ্যের দাম কমছে না। তবে সবজির বাজারে আপাতত বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদরের তথ্যেও আটা ও ময়দার মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটির হিসাবে, এক মাসের ব্যবধানে খোলা আটার দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়েছে। একই সময়ে খোলা এবং প্যাকেটজাত ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা।

তবে খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধির পরিমাণ আরও বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তাদের হিসাবে, গত এক মাসে খোলা আটার কেজিতে প্রায় ৫ টাকা এবং খোলা ও প্যাকেটজাত ময়দার কেজিতে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

রাজধানীর তিনটি খুচরা বাজারে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা আটা প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও একই পণ্য ৪৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। আগে যার দাম ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুই কেজির প্যাকেটজাত ময়দা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। মাসখানেক আগে প্যাকেটজাত ময়দার কেজি ছিল প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।

Advertisements

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের এক মুদিদোকানি জানান, আগে ৫০ কেজির এক বস্তা ময়দা ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনলেও বর্তমানে একই বস্তার জন্য তাকে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে। পাইকারি ও ডিলার পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আটা-ময়দার পাশাপাশি অন্যান্য কাঁচামালের দাম বাড়ায় বেকারি পণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। সম্প্রতি বানরুটি ও কয়েক ধরনের বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠকে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ব্যয় যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রুটি ও বিস্কুটসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়।

অন্যদিকে, মুরগি ও ডিমের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি ফিরছে না। রাজধানীর বাজারগুলোতে বৃহস্পতিবার ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রায় দেড় মাস আগে এর দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কম ছিল। এর আগে অবশ্য ব্রয়লার মুরগি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ফার্মের বাদামি ডিমের এক ডজনের দাম বর্তমানে প্রায় ১৫০ টাকা। সাদা ডিম পাওয়া যাচ্ছে এর চেয়ে প্রায় ১০ টাকা কমে। দেড় মাস আগেও ডিমের দাম প্রায় একই ছিল। এদিকে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে। হাইব্রিড বা কালারবার্ড সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা। গত এক থেকে দুই সপ্তাহে এসব মুরগির দামেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

বিক্রেতাদের মতে, সাধারণত বাজারে সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে মুরগি ও ডিমের দাম ওঠানামা করে। কিন্তু এবার দীর্ঘ সময় ধরে দাম তুলনামূলকভাবে একই অবস্থানে রয়েছে। তাদের দাবি, গত কয়েক মাসে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেক খামারে ডিম উৎপাদন এবং ব্রয়লার মুরগির সংখ্যা কমেছে। ফলে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দামও কমছে না।

মাছের বাজারেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। রুই, কাতলা, পাঙাশ, তেলাপিয়া ও পাবদাসহ বিভিন্ন মাছ আগের তুলনায় বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা এবং কাতলা ৪২০ থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আকারভেদে চাষের পাঙাশের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।

নিত্যপণ্যের এমন বাড়তি দামে একদিকে যেমন আটা-ময়দার খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে মুরগি, ডিম ও মাছের দামও কম না থাকায় সীমিত আয়ের ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

Advertisements