১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

মন ভালো রাখার নতুন ফ্যাশন: ডোপামিন জুয়েলারি

IMG-20260916-WA0019

মন খারাপের দিনে আমরা সাধারণত গান শুনি, পছন্দের খাবার খাই কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটাই। কিন্তু মন ভালো করার ছোট্ট একটি উপায় লুকিয়ে থাকতে পারে আমাদের গয়নার বাক্সেও। পছন্দের একটি আংটি, মায়ের দেওয়া পুরোনো লকেট কিংবা উজ্জ্বল রঙের কানের দুল—এসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনুভূতি মুহূর্তেই মনকে অন্য রকম করে দিতে পারে।

সম্প্রতি পোশাকের জগতে ‘ডোপামিন ড্রেসিং’ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। সহজভাবে বললে, পছন্দের রং, নকশা ও পোশাক পরার মাধ্যমে নিজের মেজাজকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার প্রবণতাকেই এভাবে বলা হয়। একই ধারণা গয়নার ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যায়। অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট গয়না সরাসরি মস্তিষ্কে ডোপামিন বাড়িয়ে দেয়—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে রং, ব্যক্তিগত পছন্দ, স্মৃতি ও সাজসজ্জার সঙ্গে যুক্ত ইতিবাচক অনুভূতি মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাহলে মন ভালো রাখতে কেমন গয়না বেছে নেবেন?

রঙিন পাথরে আনুন প্রাণের ছোঁয়া

গয়নার বাক্সে কয়েকটি উজ্জ্বল রঙের অলংকার থাকতেই পারে। হলুদ রঙের পাথর কিংবা অলংকার যেমন পোশাকে প্রাণবন্ত ভাব আনতে পারে, তেমনি সবুজ রঙের গয়নাও দেখতে প্রশান্তিদায়ক। রঙের মনোবিজ্ঞানে হলুদকে সাধারণত আনন্দ ও আশাবাদের সঙ্গে এবং সবুজকে প্রকৃতি ও প্রশান্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
তাই মনটা যখন একটু নিস্তেজ, তখন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে রঙিন পাথরের আংটি, লকেট কিংবা কানের দুল পরতে পারেন। অ্যাকুয়ামেরিনের মতো নীলাভ পাথরও অনেকের কাছে শান্ত ও কোমল অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত।

Advertisements

আত্মবিশ্বাস কম? বেছে নিন একটু বোল্ড গয়না

সব দিন একই ধরনের গয়না পরতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং কোনো দিন যদি নিজেকে একটু মলিন বা আত্মবিশ্বাসহীন মনে হয়, সেদিন বেছে নিতে পারেন বড় কানের দুল, মোটা বালা কিংবা চোখে পড়ার মতো চেইন। বোল্ড অলংকার পোশাকের সঙ্গে ব্যক্তিত্বকে আরও দৃশ্যমান করে তুলতে পারে। আয়নায় নিজেকে নতুনভাবে দেখতে পাওয়া এবং নিজের পছন্দের সাজে স্বচ্ছন্দ বোধ করাটাই অনেক সময় আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট।

স্মৃতির গয়না সবচেয়ে আপন

গয়নার সঙ্গে স্মৃতির সম্পর্ক হয়তো সবচেয়ে গভীর। মায়ের দেওয়া আংটি, দাদির পুরোনো চুড়ি, প্রিয় মানুষের উপহার কিংবা জীবনের কোনো বিশেষ অর্জনের স্মারক হিসেবে কেনা গয়না—এসবের মূল্য শুধু ধাতু বা পাথরে মাপা যায় না।
এ ধরনের অলংকার হাতে নিলেই পুরোনো কোনো সুখের মুহূর্ত মনে পড়ে যেতে পারে। পরিচিত ও প্রিয় স্মৃতি নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করতে পারে। তাই মন খারাপের দিনে দামি গয়না নয়, বরং সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিটিকে সঙ্গে রাখা গয়নাটিই হয়ে উঠতে পারে সেরা সঙ্গী।

অস্থির হাতে ঘুরুক স্পিনার রিং

যাঁদের অস্থিরতার সময়ে বারবার নখ খোঁটা, আঙুল নাড়াচাড়া করা কিংবা অন্য কোনো অভ্যাস তৈরি হয়, তাঁদের কাছে স্পিনার রিং আকর্ষণীয় একটি বিকল্প হতে পারে। এ ধরনের আংটির একটি অংশ আঙুল দিয়ে ঘোরানো যায়। আংটিটি ঘোরানোর পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ সাময়িকভাবে মনোযোগ অন্যদিকে নিতে পারে। তবে এটিকে উদ্বেগ বা মানসিক সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং অস্থির মুহূর্তে মনকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখার একটি ছোট্ট উপায় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

নূপুর-চুড়ির টুংটাংও হতে পারে আনন্দের

ছোটবেলায় পায়ে নূপুর পরার স্মৃতি অনেকেরই আছে। হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে তার মৃদু ঝংকার যেন নিজের উপস্থিতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। একইভাবে চুড়ির টুংটাং শব্দও অনেকের কাছে আনন্দদায়ক। পরিচিত কোনো মৃদু শব্দ মনোযোগকে বর্তমান মুহূর্তে ফিরিয়ে আনতে পারে এবং ভালো লাগার স্মৃতি জাগাতে পারে। তাই সুযোগ পেলে নূপুর, চুড়ি কিংবা হালকা শব্দ হয় এমন গয়না পরতে পারেন—শুধু শব্দটি যেন আপনার নিজের কাছেও আরামদায়ক হয়।

সোনা থাকুক, তবে বিশ্বাস আর বাস্তবতার সীমা জেনে

সোনার গয়না নিয়ে নানা প্রাচীন বিশ্বাস ও প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে সোনা পরলে রক্তসঞ্চালন ঠিক হয়, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে বা উদ্বেগ কমে—এ ধরনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবু সোনার গয়নার সঙ্গে যদি আপনার ভালো লাগা, পারিবারিক স্মৃতি কিংবা আত্মবিশ্বাসের সম্পর্ক থাকে, তাহলে সেটিই হতে পারে এর সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক। ছোট নাকফুল, কানের দুল, চেইন কিংবা আংটি—পছন্দের যেকোনো একটি গয়না সাজে যোগ করতে পারেন।

গয়না হোক নিজের যত্নের ছোট্ট আয়োজন

শেষ পর্যন্ত মন ভালো রাখার জন্য কোনো বিশেষ গয়না জাদুকরী সমাধান নয়। কিন্তু নিজের পছন্দের রং, প্রিয় স্মৃতি এবং সুন্দর সাজ আমাদের মেজাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মনটা যখন একটু ভার হয়ে আসে, তখন সব সময় বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।

কখনো কখনো গয়নার বাক্স খুলে মায়ের দেওয়া সেই পুরোনো আংটিটা হাতে পরা, পছন্দের কানের দুল জোড়া লাগানো কিংবা প্রিয় নূপুরের ঝংকার শোনাই যথেষ্ট হতে পারে। কারণ মন ভালো করার কিছু উপায় খুব ছোট হয়—কিন্তু তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলো।

Advertisements