১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ইসবগুল: পরিমাণ ও খাওয়ার নিয়ম জানুন

images (10)

সকালে মলত্যাগে সমস্যা, মল শক্ত হয়ে যাওয়া, দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা কিংবা পেট পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি—কোষ্ঠকাঠিন্যের এসব উপসর্গ দৈনন্দিন জীবনকে বেশ অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ ও পানি না থাকা, শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকা কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

এ সমস্যা সামলাতে অনেকেই ব্যবহার করেন ইসবগুলের ভুষি বা সাইলিয়াম হাস্ক (psyllium husk)। এটি এক ধরনের bulk-forming fibre, যা অন্ত্রে পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে এবং মলের পরিমাণ ও নরমভাব বাড়িয়ে মলত্যাগ সহজ করতে সাহায্য করে।

ইসবগুল কীভাবে কাজ করে?

ইসবগুল পানির সংস্পর্শে এলে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে। এটি অন্ত্রে পানি ধরে রাখে এবং মলকে তুলনামূলক নরম ও ভারী করে। ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতির মাধ্যমে মল বের হওয়া সহজ হতে পারে।

এটি stimulant laxative-এর মতো জোর করে অন্ত্রকে উদ্দীপিত করে না; বরং আঁশের মাধ্যমে মলের গঠন ও পরিমাণে পরিবর্তন এনে কাজ করে।

প্রতিদিন কতটা ইসবগুল খাবেন?

ইসবগুলের সঠিক পরিমাণ পণ্যের ধরন, বয়স এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। কিছু ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রায় ৫ গ্রাম বা ১–২ চা-চামচ দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়; তবে নির্দিষ্ট পণ্যের লেবেলে ভিন্ন মাত্রা থাকতে পারে।

শুরুতেই বেশি পরিমাণ নেওয়া উচিত নয়। কারণ হঠাৎ বেশি আঁশ গ্রহণ করলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে।

Advertisements

এক গ্লাস পানির সঙ্গে খাওয়া জরুরি

ইসবগুল খাওয়ার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ। সাধারণত প্রায় ২৪০ মিলিলিটার বা এক গ্লাস পানির সঙ্গে ইসবগুল মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে সঙ্গে সঙ্গে পান করতে হয়। এরপরও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

কারণ ইসবগুল অন্ত্রে পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে। পর্যাপ্ত পানি না খেলে বরং কোষ্ঠকাঠিন্য আরও খারাপ হতে পারে এবং বিরল ক্ষেত্রে অন্ত্রে বাধা তৈরির ঝুঁকি থাকে।

কখন খাবেন?

ইসবগুল খাওয়ার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই সময় নির্ধারিত নয়। পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে না খাওয়াই ভালো; কিছু psyllium পণ্যের ক্ষেত্রে শোয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে ইসবগুল ও ওষুধের মধ্যে প্রয়োজনীয় সময়ের ব্যবধান রাখতে হবে। কারণ psyllium কিছু ওষুধের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে। কোন ওষুধের ক্ষেত্রে কতটা ব্যবধান প্রয়োজন, তা পণ্যের নির্দেশনা বা চিকিৎসক-ফার্মাসিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।

শুধু ইসবগুল খেলেই কি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে?

সবসময় নয়। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান, ধীরে ধীরে খাদ্যে আঁশ বাড়ানো, শাকসবজি ও ফল খাওয়া এবং নিয়মিত হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রম উপকারী হতে পারে। টয়লেটের চাপ এলে তা আটকে না রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।

খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত আঁশ পাওয়া সম্ভব হলে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন উৎস থেকে আঁশ গ্রহণ করা সাধারণত একটি সুষম খাদ্যের অংশ।

কারা ইসবগুল খাওয়ার আগে সতর্ক হবেন?

যাদের গিলতে সমস্যা, অন্ত্রে বাধা বা বাধার আশঙ্কা, তীব্র পেটব্যথা, বমি, বমি বমি ভাব বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া psyllium নেওয়া উচিত নয়। কিডনি বা হৃদ্‌রোগসহ দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ থাকলে কিংবা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে শুরু করার আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে কথা বলা ভালো।

ইসবগুল খাওয়ার পর শ্বাস নিতে বা গিলতে সমস্যা, তীব্র পেটব্যথা, বমি কিংবা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

ইসবগুল কোষ্ঠকাঠিন্যে সহায়ক হতে পারে, তবে এটি সবার জন্য একইভাবে কাজ করবে এমন নয়। কয়েক দিন ব্যবহারের পরও সমস্যা না কমলে, বারবার কোষ্ঠকাঠিন্য হলে, মলে রক্ত দেখা গেলে, অকারণে ওজন কমলে বা হঠাৎ মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Advertisements