ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

ডেঙ্গুর মৌসুমে হাসপাতালের প্রস্তুতি যতটা জরুরি, তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় মানুষের দৈনন্দিন আচরণে পরিবর্তন আনা। ঘরবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলা কিংবা মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার মতো কাজগুলো মানুষের অভ্যাসে পরিণত না হলে শুধু চিকিৎসাব্যবস্থা দিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা কঠিন। আর সেই আচরণগত পরিবর্তন আনতেই এবার জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামতে চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় কনটেন্ট নির্মাতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যোগাযোগকর্মীদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এমন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কনটেন্ট নির্মাতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের কাজকে শুধু পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে না দেখে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানুষের জীবন রক্ষার অংশ হিসেবে সৃজনশীলভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে। এরই মধ্যে তিন হাজার চিকিৎসককে পুনঃপ্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালগুলোতে স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় শয্যা প্রস্তুত রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমাতে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আর এখানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবকে কাজে লাগাতে চায় মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষ যাঁদের কথা নিয়মিত শোনে ও অনুসরণ করে, তাঁদের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা আরও সহজে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা থেকে শুরু করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস—প্রতিদিনের এসব কাজকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে কনটেন্ট নির্মাতারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
মতবিনিময় সভায় আগামী তিন মাসের জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। সরকারি প্রচারণার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত শনিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবী তরুণকে নিয়ে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদেরও যুক্ত করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে আগামী তিন মাসের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। অংশ নেওয়া কনটেন্ট নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত নিজেদের প্রাথমিক ধারণা ও পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে এই বিশেষ ডিজিটাল প্রচারণা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের লড়াই তাই এবার শুধু হাসপাতাল, চিকিৎসক কিংবা সিটি করপোরেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মানুষের হাতের মুঠোয় থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও এই লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করতে চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লক্ষ্য একটাই—সচেতনতার বার্তা এমনভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যাতে তা শুধু পর্দায় দেখা বা শোনা নয়, বাস্তব জীবনেও আচরণ পরিবর্তনের কারণ হয়।



