জোয়ি কিংয়ের মুখের গোলগাল ভাব উধাও, রহস্য কি তবে ৩৬ ঘণ্টার উপবাসে

বয়স বাড়লেও অনেকের মুখে রয়ে যায় শিশুসুলভ গোলগাল ভাব। গাল কিংবা গলার অতিরিক্ত চর্বি ও ফোলা ভাবের কারণে মুখের চোয়াল, থুতনি বা চিবুকের রেখাও অনেক সময় স্পষ্ট দেখা যায় না। তাই মুখে কিছুটা ধারালো ও ছিপছিপে আদল আনার চেষ্টা করেন অনেকেই। তবে এ জন্য অস্ত্রোপচারের পথই যে একমাত্র উপায়, তা যেন নতুন করে আলোচনায় আনলেন হলিউড অভিনেত্রী জোয়ি কিং।
‘কিসিং বুথ’ সিনেমার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া জোয়ি কিং বরাবরই তাঁর স্বাভাবিক, গোলগাল মুখের জন্য পরিচিত। কিন্তু কয়েক মাস আগে ২০২৬ সালের মেট গালায় তাঁকে দেখে অনেকেই চমকে যান। আগের তুলনায় তাঁর মুখের গোলগাল ভাব যেন অনেকটাই কমে গেছে। গাল, চিবুক, থুতনি ও নাকের রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে অভিনেত্রীর চেহারায় এসেছে বেশ ধারালো ও পরিণত এক পরিবর্তন।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—তবে কি প্লাস্টিক সার্জারি? জোয়ির দাবি, তা নয়। তাঁর কথায়, এই পরিবর্তনের পেছনে ছিল ৩৬ ঘণ্টার উপবাস। অবশ্য নিজের এই পদ্ধতিকে খুব স্বাস্থ্যকর বলে দাবি করেননি অভিনেত্রী। বরং নিজের চেহারা নিয়ে একপর্যায়ে অস্বস্তি থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
জোয়ির ভাষ্য অনুযায়ী, এক বন্ধুর বিয়ের আগের রাতের অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজের চেহারা ও সাজগোজ তাঁর মোটেও ভালো লাগছিল না। তার ওপর সেদিন কিছুটা বেশি মদ্যপানও করেছিলেন। অনুষ্ঠানের পর তাঁর মনে হচ্ছিল, শরীর যেন ফুলে গেছে। বাড়ি ফিরে তাই শরীর ‘পরিষ্কার’ করার চিন্তা থেকে উপবাসের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এরপর টানা ৩৬ ঘণ্টা শুধু পানি পান করেন জোয়ি। তাঁর দাবি, উপবাসের পর শরীরে সামান্য পরিবর্তন দেখতে পান। পরে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনেন। মদ্যপান বন্ধ করার পাশাপাশি বাড়িয়ে দেন পানি পান। অভিনেত্রীর মতে, প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই ত্বকে উজ্জ্বলতা দেখা দিতে শুরু করে এবং মুখের অতিরিক্ত ফোলা বা গোলগাল ভাবও কিছুটা কমে যায়। তবে মেট গালার লুকের পেছনে শুধু উপবাসই ছিল না। অনুষ্ঠানের আগে লিম্ফ্যাটিক ম্যাসাজ ও ফেসিয়ালও করিয়েছিলেন তিনি। এর সঙ্গে ছিল মেকআপের কৌশল এবং সামান্য স্প্রে ট্যান। সব মিলিয়ে তাঁর মুখে আসে আরও টানটান ও সংজ্ঞায়িত একটি চেহারা।
এই পরিবর্তন দেখে অনেকেই যখন ধরে নিয়েছিলেন যে জোয়ি হয়তো ফেসলিফট বা অন্য কোনো প্রসাধনী অস্ত্রোপচার করিয়েছেন, তখন সেই ধারণা উড়িয়ে দেন অভিনেত্রী নিজেই। তাঁর বক্তব্য, কোনো প্লাস্টিক সার্জারি ছাড়াই তিনি ওই চেহারা পেয়েছেন। তবে জোয়ি কিংয়ের অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত হলেও এটিকে দ্রুত ওজন কমানো বা মুখের গড়ন বদলের নিরাপদ উপায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা শরীরে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কারও কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘ উপবাসে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
জোয়ির মেট গালা-পরবর্তী চেহারা তাই যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি তাঁর ৩৬ ঘণ্টার উপবাসের দাবিও নতুন করে সামনে এনেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন—সাময়িকভাবে মুখের ফোলা ভাব কমানো আর স্বাস্থ্যকরভাবে শরীরের পরিবর্তন আনা কি আদৌ একই বিষয়?



