হিজরি প্রথম শতকের মসজিদের সন্ধান সৌদি আরবে

মরুর বুকে লুকিয়ে থাকা ইসলামের প্রাথমিক যুগের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সামনে এসেছে সৌদি আরবে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে সন্ধান মিলেছে ১ হাজার ৩০০ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি মসজিদের। ধারণা করা হচ্ছে, মসজিদটি ইসলামের প্রথম দিককার শতাব্দীগুলোর ধর্মীয় স্থাপত্য ও জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করছে।
আল-বাহা অঞ্চলের আল-আকিক গভর্নরেটের আল-মামালাহ প্রত্নস্থলে খননের চতুর্থ মৌসুমে মসজিদটির সন্ধান পাওয়া যায়। সৌদি হেরিটেজ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্থাপনাটির দেয়ালে পাওয়া শিলালিপি ও স্থাপত্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য প্রাচীন ইসলামী স্থাপত্যের বিকাশ সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে।
মসজিদটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নিদর্শনগুলোর একটি হলো কিবলা দেয়ালে খোদাই করা একটি দোয়া। সেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি বরকত কামনা করা হয়েছে। দোয়াটিতে আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নেককার ও মনোনীত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বরকত বর্ষণের প্রার্থনা রয়েছে। শেষাংশে রয়েছে ‘আমিন’ এবং সমগ্র সৃষ্টির প্রতিপালক সত্য উপাস্যের প্রতি আহ্বান।
শুধু কিবলা দেয়ালেই নয়, মসজিদের ভেতরের ও বাইরের দেয়ালজুড়েও পাওয়া গেছে ইসলামী শিলালিপি ও কোরআনের আয়াত। প্রত্নতাত্ত্বিক দলের সদস্যদের মতে, এসব লিখিত নিদর্শন মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
স্থাপত্যের দিক থেকেও রয়েছে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য। কাটা ও ঘষামাজা করা গ্রানাইট পাথর দিয়ে নির্মিত মসজিদটির দক্ষিণ-পূর্ব অংশে একটি বর্গাকার মিনার এবং একটি মিহরাব রয়েছে। ভেতরের দেয়ালে জিপসামের প্রলেপ ব্যবহারের চিহ্নও শনাক্ত করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা।
মসজিদের মূল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিল আটটি সেবাকক্ষ। ভবনটিতে পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে তিনটি প্রবেশপথ ছিল। এসব নির্মাণশৈলী থেকে সে সময়ের মসজিদ নির্মাণের ধরন, স্থান ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং ধর্মীয় স্থাপত্যের বিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আল-মামালাহর এই আবিষ্কার অবশ্য সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সময়ের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়। এর আগে গত জুনে মদিনা অঞ্চলের আল-মাহদ গভর্নরেটে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে ১ হাজার ৭৭৪টি প্রত্ননিদর্শন নথিভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিল ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নামসংবলিত একটি বিরল পাথরের শিলালিপি।
পাথরে খোদাই করা ওই শিলালিপিতে হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর প্রতি আল্লাহর অভিভাবকত্বের উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি এতে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—এমন বক্তব্যও খোদাই করা হয়েছে।
মরুভূমির মাটির নিচ থেকে একের পর এক এমন নিদর্শন উঠে আসায় ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে নতুন করে দেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে আল-মামালাহর প্রাচীন মসজিদের দেয়ালে থাকা দোয়া, শিলালিপি ও স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য সেই সময়ের ধর্মীয় ও স্থাপত্যচর্চার একটি মূল্যবান চিত্র তুলে ধরছে।



