১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

১০ গোলের স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে বাংলাদেশ

8c8fe0796a8439c92e6cfbded7321a4f-6aaa8e5e18126

শুরুটা ছিল একেবারেই প্রত্যাশার বিপরীত। এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সেই হারের ধাক্কা কাটিয়ে এবার আরও এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ঋতুপর্ণা চাকমাদের। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া।

আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমসের ‘এফ’ গ্রুপে বৃহস্পতিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায়। প্রথম ম্যাচের বড় হার ভুলে এই ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াই এখন বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নিয়মিত একাদশের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা ও মনিকা চাকমাকে বিশ্রামে রেখেছিলেন প্রধান কোচ পিটার বাটলার। তাঁদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন দলের তরুণ খেলোয়াড়েরা। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এবার আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা দলের।

বড় হারের পরও অনুশীলনে তার প্রভাব পড়তে দিতে চাইছে না বাংলাদেশ। বুধবার সকালে বৃষ্টির মধ্যেই জে-গ্রিন সাকাই স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিতে অনুশীলন করেছে দল। আগের ম্যাচের ভুলগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো শুধরে নেওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার খেলার ধরন নিয়েও কাজ করেছেন কোচিং স্টাফরা। প্রথম ম্যাচের ফলকে দলের জন্য ‘রূঢ় বাস্তবতা’ হিসেবে দেখছেন সহকারী কোচ আবুল হোসেন। তবে তাঁর মতে, সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনো রয়েছে। তিনি বলেন, শুরুটা ভালো হয়নি, কিন্তু গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সামনে আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে। সেসব ম্যাচে নিজেদের উন্নতি তুলে ধরতে মেয়েরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি সম্পর্কে আবুল হোসেন জানান, প্রতিপক্ষের ম্যাচ বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল ঠিক করা হয়েছে। তাঁর মতে, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার খেলার ধরনে বেশ কিছু মিল রয়েছে। তবে দুই দলের সামর্থ্যের ব্যবধানও যে যথেষ্ট, সেটি স্বীকার করেছেন তিনি। তাই ফলের হিসাবের চেয়ে মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জন্য গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে দেখা হচ্ছে ২১ সেপ্টেম্বরের মিয়ানমার ম্যাচকে। আবুল হোসেনের কথাতেও সেই পরিকল্পনাই স্পষ্ট। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচগুলোকে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখলেও মিয়ানমারের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পাওয়াকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরেছে দল। কারণ, দুই দলের সামর্থ্যের ব্যবধান তুলনামূলক কম।

দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থার দিক থেকেও স্বস্তির খবর আছে। চীনে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পাওয়া নবিরন খাতুন ছাড়া দলের বাকি খেলোয়াড়েরা ফিট আছেন বলে জানিয়েছেন সহকারী কোচ। এদিকে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০ গোল হজমের পর বাংলাদেশের রক্ষণভাগেও এসেছে বাড়তি সতর্কতা। ডিফেন্ডার শিউলি আজিম জানিয়েছেন, আগের ম্যাচের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রক্ষণ আরও সংগঠিত করার চেষ্টা করবেন তাঁরা। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোল হজমের সংখ্যা কমিয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়াই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

Advertisements

শিউলির মতে, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় একই ধরনের শক্তিশালী দল। তাদের গতি ও আক্রমণের সঙ্গে তাল মেলানো বাংলাদেশের জন্য কঠিন হলেও উন্নতির জন্য দল নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করছে।

১০ গোলের বড় হার তাই এখন বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি পরাজয়ের স্মৃতি নয়, বরং ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার একটি কঠিন শিক্ষা। সেই শিক্ষা সঙ্গে নিয়েই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে ঋতুপর্ণা-মনিকার দল। ফল যা-ই হোক, আগের ম্যাচের চেয়ে নিজেদের আরও গুছিয়ে উপস্থাপন করাই হবে বাংলাদেশের প্রথম পরীক্ষা।

Advertisements