১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১ আশ্বিন ১৪৩৩
বিবিধ

সামাজিক মাধ্যমে মানহানি ও অপতথ্য ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী

czber-1789361988

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। এসব প্রবণতা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকারের শুরুতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় আন্দালিব রহমানকে অভিনন্দন জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। পরে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিসরেও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

আন্দালিব রহমান বলেন, অতীতের দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।

আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার। প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, এসব তথ্যের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচার চালানোর ঘটনাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এ ধরনের অপতথ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

Advertisements

নাগরিকেরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ বাড়ছে। বৈঠকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়টিও উঠে আসে। ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রেখেই দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

Advertisements