১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | বুধবারবাংলা: ১ আশ্বিন ১৪৩৩
জীবনযাপন

সারাক্ষণ ক্ষুধা লাগার পেছনে থাকতে পারে যেসব কারণ

IMG_4858

খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ক্ষুধা লাগা স্বাভাবিক। শরীরের নিয়মিত শক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী এমনটা হতে পারে। তবে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরও যদি বারবার ক্ষুধা লাগে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, মানসিক চাপ ও সার্বিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

ক্রমাগত ক্ষুধা লাগার অর্থ সবসময় যে কম খাওয়া হচ্ছে, তা নয়। জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যাও ক্ষুধা বাড়িয়ে দিতে পারে।

খাবারে প্রোটিন ও ফাইবারের ঘাটতি

পরিশোধিত শর্করাজাতীয় খাবার দ্রুত শক্তি দিলেও দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে পারে না। অন্যদিকে প্রোটিন ও ফাইবার তুলনামূলকভাবে বেশি সময় তৃপ্ত রাখতে সাহায্য করে। ডিম, ডাল, মাছ, মুরগির মাংস, দই, বাদাম ও শিম থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়। শাক-সবজি, ফল, গোটা শস্য, ডাল ও বিভিন্ন বীজ ফাইবারের ভালো উৎস।

তাই শুধু সাদা ভাত, রুটি বা পরিশোধিত স্ন্যাকসের ওপর নির্ভর না করে খাবারে প্রোটিন ও সবজি যুক্ত করা যেতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া

Advertisements

ঘুমের ঘাটতি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে দিনের বেলায় বেশি ক্ষুধা লাগার পাশাপাশি উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণও বাড়তে পারে। নিয়মিত কম ঘুম হলে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

এ কারণে খাবার বা ক্যাফেইনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।

তৃষ্ণাকে ক্ষুধা মনে করা

কখনও কখনও শরীরে পানির প্রয়োজনকেও ক্ষুধা বলে মনে হতে পারে। গরম আবহাওয়া কিংবা ব্যায়ামের পর এমন অনুভূতি বেশি হতে পারে। খাবারের মাঝখানে হঠাৎ খাওয়ার ইচ্ছা হলে প্রথমে পানি পান করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখা যেতে পারে। এরপরও ক্ষুধা থাকলে পুষ্টিকর খাবার বা নাস্তা খাওয়া উচিত।

অতিরিক্ত পরিশোধিত শর্করা খাওয়া

চিনিযুক্ত পানীয়, মিষ্টি, বিস্কুট, পেস্ট্রি ও অন্যান্য পরিশোধিত শর্করাজাতীয় খাবার বেশি খেলে দীর্ঘ সময় তৃপ্তি নাও আসতে পারে। ফলে অল্প সময় পরপর খাওয়ার ইচ্ছা হতে পারে।

খাবারে গোটা শস্য, শাক-সবজি, ফল, ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় পেট ভরা থাকতে পারে। তবে শর্করা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; খাবারের পরিমাণ ও সামগ্রিক ভারসাম্যই গুরুত্বপূর্ণ।

মানসিক চাপ ও আবেগতাড়িত খাওয়া

মানসিক চাপও ক্ষুধা বাড়াতে পারে। স্ট্রেসের সময় শরীরে কর্টিসলের মতো হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খাওয়ার প্রবণতা বাড়ায়। আবার উদ্বেগ, একঘেয়েমি বা আবেগজনিত অস্থিরতার সময় শারীরিক ক্ষুধা না থাকলেও খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হতে পারে।

তাই কখন খাওয়ার ইচ্ছা হচ্ছে এবং সেই সময় মানসিক অবস্থার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও খেয়াল করা দরকার।

শারীরিক পরিশ্রমের তুলনায় কম খাওয়া

ব্যায়াম বা দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে শরীরের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হতে পারে। ক্রীড়াবিদ, শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন এমন ব্যক্তি কিংবা কঠোর খাদ্যতালিকা অনুসরণকারীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় কম ক্যালোরি গ্রহণ করলে ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে খাবারে পর্যাপ্ত ক্যালোরি, প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি আছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণও হতে পারে

অস্বাভাবিক বা ক্রমাগত ক্ষুধা কখনও কখনও কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজ ব্যবহারে সমস্যা হলে শরীর অতিরিক্ত ক্ষুধার সংকেত দিতে পারে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি, ঝাপসা দৃষ্টি বা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া হাইপারথাইরয়েডিজম বা অতিসক্রিয় থাইরয়েডের কারণেও ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওজন কমে যাওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন, অতিরিক্ত ঘাম, কাঁপুনি, উদ্বেগ কিংবা ঘন ঘন মলত্যাগের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

কিছু ওষুধ, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া এবং কিছু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও অতিরিক্ত ক্ষুধার কারণ হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মাঝেমধ্যে ক্ষুধা লাগা স্বাভাবিক। তবে ক্ষুধা যদি হঠাৎ বা দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যাখ্যাতীত উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisements