১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
জীবনযাপন

শরতের পোশাকে কোন রং বেশি মানানসই?

Dress–pic-66e14028d3de0

শরৎ মানেই নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর প্রকৃতিতে এক ধরনের স্নিগ্ধতা। ঋতু বদলের সঙ্গে বদলে যায় পোশাকের ধরন ও রঙের পছন্দও। বর্ষার গাঢ় রং কিংবা গ্রীষ্মের অতিরিক্ত হালকা শেডের বদলে শরতে পোশাকে দেখা যেতে পারে উজ্জ্বল ও নরম রঙের সুন্দর সমন্বয়। আরামদায়ক কাপড়ের সঙ্গে সঠিক রং বেছে নিতে পারলে সাধারণ পোশাকও হয়ে উঠতে পারে বেশ স্টাইলিশ।

সাদা ও অফ-হোয়াইটে শরতের স্নিগ্ধতা

শরতের পোশাকে সাদা, অফ-হোয়াইট ও আইভরি রং সবসময়ই নজরকাড়া। বিশেষ করে সুতির কামিজ, লিনেনের শার্ট, পালাজ্জো কিংবা শাড়িতে এসব রং বেশ মানিয়ে যায়। সাদা পোশাকের সঙ্গে হালকা নীল, ফিরোজা বা সবুজ রঙের ওড়না ও অ্যাকসেসরিজ যোগ করলে লুকে আসবে সতেজতা।

আকাশি ও প্যাস্টেল নীল

শরতের নীল আকাশের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাকেও রাখা যায় আকাশি বা প্যাস্টেল ব্লু। এই রং দিনের বেলায় পরার জন্য বেশ উপযোগী। আকাশি রঙের কুর্তি বা শাড়ির সঙ্গে সাদা, বেইজ কিংবা হালকা ধূসর রঙের সমন্বয় করলে তৈরি হবে শান্ত ও পরিপাটি লুক।

ফিরোজা ও কোবাল্ট ব্লুতে রঙের ছোঁয়া

যারা একটু উজ্জ্বল রং পছন্দ করেন, তাদের জন্য ফিরোজা ও কোবাল্ট ব্লু হতে পারে ভালো পছন্দ। পুরো পোশাক উজ্জ্বল না করে নিউট্রাল রঙের পোশাকের সঙ্গে এসব রঙের ওড়না, ব্যাগ, জুতা কিংবা গয়না ব্যবহার করা যায়। এতে পোশাকে অতিরিক্ত চাকচিক্য না এনে সহজেই ‘কালার পপ’ তৈরি হবে।

হলুদে শরতের উজ্জ্বলতা

হলুদ শরতের পোশাকে আলাদা প্রাণ এনে দিতে পারে। তবে খুব বেশি উজ্জ্বল হলুদের বদলে বাটার ইয়েলো, মাস্টার্ড বা হালকা হলুদ শেড বেছে নিলে লুকটি আরও পরিশীলিত দেখাবে। হলুদ কামিজের সঙ্গে সাদা প্যান্ট বা পালাজ্জো এবং হালকা রঙের ওড়না বেশ মানানসই।

কমলা ও টেরাকোটা

শরতের পোশাকে একটু উষ্ণ আবহ আনতে কমলা, বার্ন্ট অরেঞ্জ ও টেরাকোটা রং ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে শাড়ি, কুর্তি কিংবা ফিউশন পোশাকে এসব রং বেশ আকর্ষণীয়। কমলার সঙ্গে ফিরোজা বা নীলের মতো বিপরীত রং যোগ করলে তৈরি হবে আরও ফ্যাশনেবল লুক।

Advertisements

সবুজেও থাকুক সতেজতা

অলিভ, সেজ, মিন্ট কিংবা পিস্তাচিও—সবুজের বিভিন্ন শেড শরতের জন্য দারুণ। বিশেষ করে দিনের ক্যাজুয়াল পোশাকে সেজ বা মিন্ট সবুজ ব্যবহার করলে লুকে থাকবে কোমলতা। অন্যদিকে অলিভ সবুজ একটু গাঢ় ও পরিণত স্টাইল তৈরি করতে পারে।

বেইজ ও ব্রাউনের সঙ্গে আরামদায়ক লুক

শরতের পোশাকে নিউট্রাল শেডও বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বেইজ, ক্যামেল, কফি ও হালকা ব্রাউন রং দিয়ে তৈরি করা যায় মিনিমাল লুক। তবে পুরো পোশাক একই রঙের হলে একঘেয়েমি কাটাতে উজ্জ্বল ব্যাগ, জুতা বা স্কার্ফ ব্যবহার করা যেতে পারে।

কালো পোশাকেও থাকুক রঙের খেলা

কালো পোশাককে আরও আকর্ষণীয় করতে সঙ্গে রাখা যায় লাল, কমলা, হলুদ বা কোবাল্ট ব্লুর মতো উজ্জ্বল রং। যেমন কালো কামিজের সঙ্গে লাল ব্যাগ, কোবাল্ট ব্লু ওড়না বা হলুদ জুতা—ছোট একটি রঙের সংযোজনই পুরো লুক বদলে দিতে পারে।

পোশাকের রং বাছাইয়ে কী খেয়াল রাখবেন?

শরতের পোশাকের রং বাছাইয়ের সময় শুধু ট্রেন্ড নয়, সময়, পোশাকের ধরন ও ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যও গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বেলায় সাদা, প্যাস্টেল, আকাশি, মিন্ট বা বেইজের মতো হালকা রং ভালো মানায়। বিকেল বা সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে টেরাকোটা, মাস্টার্ড, কোবাল্ট ব্লু কিংবা গাঢ় সবুজ বেছে নেওয়া যেতে পারে।

আর একটি বিষয় হলো—একসঙ্গে অনেক উজ্জ্বল রং ব্যবহার না করাই ভালো। একটি পোশাকের প্রধান রং হিসেবে নিউট্রাল বা প্যাস্টেল শেড রেখে তার সঙ্গে একটি উজ্জ্বল রঙের ব্যাগ, জুতা, ওড়না বা গয়না যোগ করলে লুকটি হবে আধুনিক ও ভারসাম্যপূর্ণ।

শরতের ফ্যাশনে শেষ কথা

শরতের পোশাকে নির্দিষ্ট কোনো একটি রংই সেরা নয়। বরং সাদা-আকাশি থেকে শুরু করে ফিরোজা, বাটার ইয়েলো, মাস্টার্ড, টেরাকোটা কিংবা সেজ গ্রিন—সব রঙেরই রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। হালকা ও স্নিগ্ধ রঙের সঙ্গে একটুখানি উজ্জ্বল রঙের মিশেলই হতে পারে এবারের শরতের ফ্যাশনের মূল আকর্ষণ। ফলে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই; নিজের পুরোনো পোশাকের সঙ্গে শুধু সঠিক রঙের একটি ব্যাগ, স্কার্ফ, জুতা বা গয়না যোগ করেই তৈরি করা সম্ভব নতুন শরতের লুক।

Advertisements