১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | মঙ্গলবারবাংলা: ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
জীবনযাপন

গোড়ালি ও পায়ের তালুর ব্যথা কমানোর সহজ উপায়

resize

সারাদিন দাঁড়িয়ে কাজ করা, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, অতিরিক্ত ওজন, ভুল জুতা পরা কিংবা পায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারণে গোড়ালি ও পায়ের তালুতে ব্যথা হতে পারে। ঘুম থেকে উঠে প্রথমবার হাঁটার সময় বেশি ব্যথা অনুভূত হওয়া, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর পায়ে চাপ পড়লে অস্বস্তি কিংবা দিনের শেষে গোড়ালিতে টান ধরাও এ সমস্যার সাধারণ লক্ষণ।

অনেকেই ব্যথা হলেই ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর করেন। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও সমস্যার মূল কারণ দূর হয় না। তাই দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি খাবারের তালিকায় প্রদাহ কমাতে সহায়ক কিছু উপাদান রাখা যেতে পারে।

আদা-চা বা আদা পানি

আদায় থাকা জিঞ্জেরলসহ বিভিন্ন যৌগের প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই নিয়মিত খাবারের অংশ হিসেবে আদা রাখা যেতে পারে। এক কাপ গরম পানিতে সামান্য আদা দিয়ে পান করা যায়। চাইলে স্বাদের জন্য অল্প মধুও যোগ করতে পারেন।

হলুদ হতে পারে উপকারী

হলুদের অন্যতম সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন। এর প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। রান্নায় নিয়মিত হলুদ ব্যবহারের পাশাপাশি দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে শুধু হলুদ খেলেই গোড়ালির ব্যথা সেরে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

খাদ্যতালিকায় রাখুন মাছ

বিশেষ করে তৈলাক্ত মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় মাছ রাখা ভালো। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

হালকা গরম পানিতে পা ভেজাতে পারেন

দীর্ঘক্ষণ হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার পর পায়ে ক্লান্তি ও টান অনুভূত হলে হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে অনেকের পেশির অস্বস্তি সাময়িকভাবে কমে এবং পা কিছুটা আরাম পায়। তবে পানি খুব গরম করা উচিত নয়।

Advertisements

ব্যথার জায়গায় ঠান্ডা সেঁক

অতিরিক্ত হাঁটা বা ব্যায়ামের পর গোড়ালিতে ব্যথা কিংবা সামান্য ফোলা দেখা দিলে কাপড়ে মোড়ানো বরফ দিয়ে ১৫–২০ মিনিট ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে। সরাসরি ত্বকের ওপর বরফ ব্যবহার না করাই ভালো।

পা ও গোড়ালির হালকা ব্যায়াম

পায়ের পেশি ও গোড়ালির নমনীয়তা বাড়াতে নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং উপকারী হতে পারে। যেমন—দেয়ালে হাত রেখে ধীরে ধীরে কাফ মাসল স্ট্রেচ করা বা বসে পায়ের আঙুল নিজের দিকে টেনে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখা। ব্যায়ামের সময় ব্যথা বেড়ে গেলে তা বন্ধ করতে হবে।

জুতার দিকেও নজর দিন

ভুল জুতা গোড়ালির ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত হিল, খুব শক্ত সোল কিংবা পায়ের সঙ্গে ঠিকমতো মানানসই নয়—এমন জুতা এড়িয়ে চলুন। হাঁটার সময় আরামদায়ক, কুশনযুক্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্চ সাপোর্ট আছে এমন জুতা বেছে নেওয়া ভালো।

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কমান

একটানা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে গোড়ালিতে চাপ বাড়ে। কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে হলে সুযোগ পেলেই কয়েক মিনিট বসে বিশ্রাম নিন। একইভাবে হঠাৎ করে হাঁটা বা ব্যায়ামের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ানো ভালো।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

সাধারণ পরিচর্যার পরও ব্যথা না কমলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যথা থাকলে, হাঁটতে সমস্যা হলে, পা ফুলে গেলে, আঘাতের পর তীব্র ব্যথা হলে কিংবা ঘুম ও দৈনন্দিন কাজে ব্যথা বাধা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ গোড়ালির ব্যথার পেছনে প্লান্টার ফ্যাসাইটিস, টেন্ডনের সমস্যা, আঘাত, আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

Advertisements