১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
জীবনযাপন

হাঁটু সুস্থ রাখতে জানুন কোন অভ্যাসগুলো বদলানো জরুরি

IMG_4788

আমাদের প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাসই ধীরে ধীরে হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া, ভুল জুতা পরা কিংবা ভুল ভঙ্গিতে বসা-দাঁড়ানোর মতো বিষয়গুলো হাঁটুর স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো এসব অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে দীর্ঘমেয়াদে হাঁটু সুস্থ রাখা সম্ভব।

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা হাঁটুর জন্য ক্ষতিকর অভ্যাসগুলোর একটি। অফিস কিংবা বাড়িতে একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলে উরু ও পায়ের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে হাঁটুর জোড়ের ওপর চাপ বাড়ে এবং শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার মাঝে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শরীরের অতিরিক্ত ওজনও হাঁটুর ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করে। হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা কিংবা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার সময় শরীরের ভার বহন করতে হয় হাঁটুকে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা হাঁটুর দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভুল জুতা পরার অভ্যাসও হাঁটুর সমস্যার কারণ হতে পারে। নিয়মিত হাই হিল, অতিরিক্ত টাইট জুতা কিংবা পর্যাপ্ত সাপোর্ট নেই এমন জুতা পরলে পায়ের স্বাভাবিক অবস্থান বদলে যেতে পারে। এর প্রভাব হাঁটুর পাশাপাশি কোমর ও পিঠেও পড়তে পারে। হাঁটা বা ব্যায়ামের সময় ভালো আর্চ সাপোর্ট ও কুশনিং রয়েছে এমন জুতা ব্যবহার করা ভালো।

এ ছাড়া ভুল ভঙ্গিতে বসা, দাঁড়ানো বা ব্যায়াম করলেও শরীরের অ্যালাইনমেন্টে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে হাঁটু ও কোমরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি শরীরচর্চার সময়ও সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি।

পর্যাপ্ত পানি না খাওয়াও শরীরের জন্য নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে পেশিতে টান ও ক্র্যাম্পের প্রবণতা বাড়তে পারে। শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

হাঁটুর ব্যথা বারবার হলে সেটিকে বয়সের স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়। নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম হাঁটুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা হাঁটাচলায় সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Advertisements