হিন্দু ধর্মীয় দলের সফরে নারী কর্মীদের সরানোর অভিযোগ, বন্ধ আইফেল টাওয়ার

প্যারিসের ঐতিহাসিক আইফেল টাওয়ারে একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধি দলের সফরকে কেন্দ্র করে নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মীরা ধর্মঘট পালন করায় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনভর দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয় বিশ্বখ্যাত স্থাপনাটি।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফ্রান্সে আসা ‘বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা’ (বিএপিএস)-এর প্রায় ১০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে যায়।
আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা ‘সেটে’ (SETE)-এর কর্মীদের অভিযোগ, প্রতিনিধি দলের সফরের সময় নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাদের জায়গায় পুরুষ কর্মীদের নিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নারী কর্মীদের প্রবেশ বা চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

পরিচালনাকারী সংস্থা সেটে পরে স্বীকার করে, প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার অনুরোধ গ্রহণ করা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।
সেটে-এর সভাপতি অ্যারিয়েল ওয়েইল এএফপিকে বলেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্রান্সের নারী-পুরুষ সমতার নীতির প্রতি প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে বিএপিএস কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, সংগঠনটি সার্বজনীন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় বিশ্বাস করে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। সমতা বিষয়ক মন্ত্রী অরোরে বার্জ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ফ্রান্সে কোনো ধর্ম বা মতাদর্শ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মেরিন ল্য পেন ও গ্যাব্রিয়েল আতালসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাও ঘটনার সমালোচনা করেছেন।
প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ দর্শনার্থী আইফেল টাওয়ার পরিদর্শন করেন। ধর্মঘটের কারণে একদিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে স্থাপনাটি আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরবে বলে জানানো হয়েছে।



