বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
স্বাস্থ্য

কেন খাবেন ‘ব্ল‍্যাক কফি’?

IMG_4445

চিনি, দুধ বা ক্রিম মেশানো কফি থেকে ব্ল্যাক কফিতে অভ্যস্ত হওয়া অনেকের কাছেই কঠিন মনে হতে পারে। স্বাদে বড় পরিবর্তন এলেও নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পানে ক্যাফেইনের প্রভাবের পাশাপাশি শরীরে আরও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

ব্ল্যাক কফির অন্যতম সুবিধা হলো এতে প্রায় কোনো ক্যালোরি থাকে না। সাধারণ এক কাপ ব্ল্যাক কফিতে প্রায় দুই থেকে চার ক্যালোরি থাকে। তবে দুধ, চিনি, ক্রিম কিংবা ফ্লেভারযুক্ত সিরাপ যোগ করলে এর ক্যালোরি দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালোরি এড়াতে ব্ল্যাক কফি তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।

কফিতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। এ কারণেই শুধু ক্যাফেইনের জন্য নয়, কফির অন্যান্য উপাদানের কারণেও পানীয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে।

লিভারের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও কফির সম্ভাব্য উপকারের কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে ক্লিনিকাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় যুক্তরাজ্যের বায়োব্যাংকের ৩ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য প্রায় ১৩ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, যারা প্রতিদিন পাঁচ বা তার বেশি কাপ কফি পান করেন, তাদের সিরোসিসের ঝুঁকি ৩২ শতাংশ, লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি ৪৭ শতাংশ এবং লিভার-সম্পর্কিত মৃত্যুর ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কম ছিল কফি না পানকারীদের তুলনায়। তবে এর অর্থ বেশি পরিমাণে কফি পান করাই ভালো—এমন নয়।

ব্ল্যাক কফির সঙ্গে গেঁটেবাতের ঝুঁকি কমারও সম্পর্ক পাওয়া গেছে কিছু গবেষণায়। ২০২৫ সালে নিউট্রিশন রিসার্চ অ্যান্ড প্র্যাকটিস-এ প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, কফি পান হাইপারইউরিসেমিয়া ও গেঁটেবাতের ঝুঁকি কমার সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পর্কিত। তবে এটি গেঁটেবাতের চিকিৎসার বিকল্প নয়।

ব্যায়ামের আগে এক কাপ ব্ল্যাক কফিও অনেকের জন্য কার্যকর হতে পারে। এর ক্যাফেইন সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি শারীরিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে ক্যাফেইন সাময়িকভাবে বিপাকীয় হার বাড়াতে পারে বলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও এর সামান্য ভূমিকা থাকতে পারে। তবে শুধু কফির ওপর নির্ভর করে ওজন কমানো সম্ভব নয়; সুষম খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চাই মূল বিষয়।

শুরুতে ব্ল্যাক কফির স্বাদ তেতো বা অস্বস্তিকর লাগলেও ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্ত হওয়া যায়। হালকা রোস্ট কিংবা ফ্রেঞ্চ প্রেস, মোকা পট বা কোল্ড ব্রুর মতো তুলনামূলক মসৃণ পদ্ধতিতে তৈরি কফি দিয়ে শুরু করলে পরিবর্তনটি সহজ হতে পারে। সময়ের সঙ্গে অনেকেই কফিতে চিনি বা দুধ ছাড়াই এর নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ উপভোগ করতে শুরু করেন।

Advertisements