একাদশের পর পড়াশোনা ছাড়ার আক্ষেপ কারিনার

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা পেলেও নিজের জীবনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো আক্ষেপ রয়েছে তার। একাদশ শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে অভিনয়ে পা রাখার সিদ্ধান্তই মাঝে মাঝে ভাবায় তাকে।
২০২৪ সালে ‘সিংহাম এগেইন’ সিনেমায় সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে কারিনাকে। এরপর সিনেমায় তার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, উত্থান-পতন এবং কিছু আক্ষেপের কথা জানান এই অভিনেত্রী।

কারিনা বলেন, তিনি কখনোই মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ করতে চাননি। তবে সেই সময় অভিনয়ের সুযোগ আসায় একাদশ শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। তখন অভিনয়কে বেছে নেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল তার কাছে। নিজের অবস্থান তৈরি করতে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

এই সিদ্ধান্তের কারণেই এখনো আক্ষেপ রয়েছে কারিনার। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দুই ছেলে তৈমুর ও জাহাঙ্গীরের পড়াশোনার ব্যাপারে তিনি বেশ সচেতন। সন্তানদের পছন্দের পেশা বেছে নেওয়ার আগে পড়াশোনা শেষ করার পরামর্শ দেন তিনি।
কারিনা জানান, দুই ছেলে থাকায় তার অভিজ্ঞতাও একেবারেই আলাদা। কারণ তিনি ও তার বোন কারিশমা কাপুর ভাই ছাড়া বড় হয়েছেন। তাই তৈমুর ও জাহাঙ্গীরকে একসঙ্গে বড় হতে দেখা তার কাছে বিশেষ অনুভূতির।
বড় ছেলে তৈমুরের প্রসঙ্গে কারিনা জানান, আপাতত বলিউডের প্রতি তার কোনো আগ্রহ নেই। খেলাধুলার প্রতি বেশি ঝোঁক রয়েছে তার। ভবিষ্যতে ক্রিকেটার কিংবা ফুটবলার হতে চায় তৈমুর। এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্নও রয়েছে তার।
তবে সময়ের সঙ্গে তৈমুরের পছন্দ বদলাতে পারে বলেও মনে করেন কারিনা। আর সে ক্ষেত্রে তার কোনো আপত্তি নেই। চলচ্চিত্র পরিবারে জন্মেছে বলেই তাকে অভিনেতা হতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
২০০০ সালে ‘রিফিউজি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় কারিনার। এরপর ‘জাব উই মেট’, ‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘চামেলি’সহ বহু সফল সিনেমায় অভিনয় করে হিন্দি চলচ্চিত্রে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি। ২০১২ সালে অভিনেতা সাইফ আলী খানকে বিয়ে করেন কারিনা। তাদের দুই ছেলে তৈমুর আলী খান ও জাহাঙ্গীর আলী খান।



