‘সনাতনীরা নির্দিষ্ট দলের ভোট ব্যাংক’—এই ধারণা ভেঙে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্দিষ্ট দলের ভোট ব্যাংক’—এমন ধারণা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভেঙে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে বের হওয়া র্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি নির্দিষ্ট দলের ভোট ব্যাংক মনে করতেন এবং রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইতেন, দেশের সচেতন জনগণ সেই ধারণা ও ‘কৃত্রিম মিথ’ ভেঙে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিকেরই নিজেকে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্মের পরিবর্তে নাগরিক পরিচয়ই হবে প্রধান। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা নৃগোষ্ঠী—সবাই বাংলাদেশের সমান অধিকারভুক্ত নাগরিক এবং প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আচার পালন করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মচর্চার অধিকার নিশ্চিত করেছে। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। উপাসনালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা এবং স্থাপনের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।
তিনি বলেন, শুধু সংবিধানে এসব অধিকার লিখে রাখলেই হবে না, বাস্তবেও ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে।
‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও শান্তি’ বলার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতিবাচক ভাষার চর্চা সমাজকে আরও সুন্দর করে তুলবে।
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতি হলো ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। সবার আগে বাংলাদেশ—এই নীতির ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়ই সবার প্রধান পরিচয় হবে।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানসহ অনেকে।
পলাশী মোড়ের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গন থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।



