Skip to content

২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রতীক্ষার দিনলিপি

ক-৪২/২, লেনের সেই বাড়িতে আজও আছি। অথচ, বহুদিন ধরে তোমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। জানি না তুমি কেমন আছ। আমিও সময় পাই না কোনদিকে যেতে। তবে এবার সময় পেলে; তোমাদের বাড়িতে যাবো।

বাড়ির অন্যদের খবর কী! এদিকে আসবে কি? এলে যোগাযোগ করো; ওপরের ঠিকানায় আছি। আমি না হয় নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততা, লেখালেখির চাপ আর কিছুটা অভিমান নিয়ে তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করা ছেড়ে দিয়েছি। তুমিও কি ভুলে গেছ তোমার প্রিয় ডিজিটগুলো? কই একবার তো ডায়াল করে জানতে চাওনি; আমি কেমন আছি? কৌতূহল হয়নি, বেঁচে আছি, না কি মরে গেছি?

শেষ কবে তোমাকে দেখেছিলাম এখনো স্পষ্ট মনে আছে। এইতো সেদিন; অথচ একে একে কেটে গেছে সাতটি বছর। সেই দেখাটাই ছিল শেষ দেখা, তোমার বিয়ের আগে। তোমাকে ভুলে যাওয়ার জন্য আমাকে মিনতি করেছিলে। তোমার মিনতি আমি উপেক্ষা করতে পারিনি। অনেক কথাবার্তা ভাবনা-চিন্তার পর বিদায় মুহূর্তে লক্ষ করলাম; তোমার দু-চোখের কোণ দিয়ে কয়েক ফোঁটা জল ঝরেছে। আমিও তোমার উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবনের প্রত্যাশায়; আমার মনের সুখ ও আহ্লাদকে জলাঞ্জলি দিয়ে, তোমাকে বিদায় দেই ও নতুন জীবনের জন্য অভিবাদন জানাই।

আজও তুমি আমার খবর রাখো কি না, জানি না। কিন্তু, আমি পরিচিতদের কাছ থেকে ঠিকই তোমার খবরাখবর নেই। সুখী হয়েছ জেনে তৃপ্তি আসে, ক্লান্তিরাও বিদায় নেয়; দু-দণ্ড সান্ত্বনা পাই। তবে ভোগ বিলাসিতা আর আরাম আয়েশে অনেক সুখী হয়েছ জানি। কিন্তু প্রকৃত সুখী পেয়েছ কি না; সেই কথা জানি না।

মনের দিক থেকে কেউ যদি সুখী হতে না পারে; তবে তাকে কি আর প্রকৃত সুখ বলা যায়? প্রত্যেককেই ভালোবেসে সুখী হতে হবে এর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সকলেই সুখী হয় না, কারও কারও জীবনে প্রেম ভালোবাসার আকণ্ঠ হাহাকার ও শোক বয়ে আসে। তবুও এ নিয়ে আমি চিরকাল তৃপ্তি ও আনন্দদায়ক হাসিই হেসে যাব।

কোনো দিন মুখোমুখি বসে আর জানতে চাইব না ‘Oh My Heart’ কিংবা একথাও বলব না: এসো সখি গগনিকা স্বপ্নের সোনালি দ্বীপে। আমরা ঘর বাঁধি, সংসার পাতি। আমাদের পবিত্র মিলনে আসুক সন্তান; তুমি মা হও আর আমি হই বাবা।

মনে পড়ে, একদিন সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন বপন করেছিলাম আমরা। আজ সেই ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন ফ্যাকাসে হয়ে এলো কাছাকাছি। তুমি কখনো এর কোনো বিশেষণ জানতে চাওনি কোনো দিন। রঙিন চশমায় যদি পৃথিবী দেখো, তবে নিশ্চয়ই অণু-বিক্ষণ অস্ত্রের মতো কাজ করবে না। এখন, এইসব কথা বলে কি আর লাভ। ভুলে গেছি কবেই। তবু কেন জানি স্মৃতিগুলো তাড়িত করে বেড়ায়। একদিন কি আশ্চর্য অনুভূতি ছিল তোমার প্রতি আমার। চোখের দিকের তাকিয়েই বলে দিতে পারতাম তোমার না বলা কথাগুলো। আজ আর সেইসব অনুভূতি নেই। আঙুলের এক ফাঁকে সিগারেট থাকে; জ্বলন্ত সে সিগারেট টানের চেয়ে বেশি হাতে পুড়ে যায়। তোমাকে ভাবলেই বেশকিছু কবিতার পঙ্‌ক্তি উঁকিঝুঁকি দেয়,

আমিও ভুল যাব।
আবার ভালোবাসার
খুনসুটিতে মাতিয়ে
রাখবো দিনমান!

কোথায় বন্দর যেথা থামবে জাহাজ;
কোনখানেই বা সেই অনিন্দ্য সুন্দরী রমণী?
আমি তো চাই-ই সে আমার হৃদয়
সমুদ্রের পারে নোঙ্গর ফেলুক।
যে নাকি উত্তর সাগর থেকে নোনাজলে দক্ষিণে বিলীন।

কোথা শেষ হবে সেই যাত্রা এই কথা নেই জানা
কে করিল কে করিল আসতে তোমারে মানা?
ক্রমাগত চুম্বন ছিল তোমারই মহিমায়
হে রমণী বধির ত্রিকাল।

যদিও আমি কবি নই। তবুও কেন জানি কবি হয়ে যাই; গাঢ়ল বাউল হয়ে যাই।

মাঝে মাঝে ভেবেছি ইঞ্জিনিয়ার হবো, না কি কবি হয়েই কাটাবো জীবন। এটি ভবিষ্যতে মানুষের ভাবনার বিষয় ছাড়া আর কিছু নয়। শিল্পীর তুলিতে যদি তোমার ছবি আঁকি; তাই বলে আমি শিল্প নই, যদি তোমাকে নিয়ে হাজারো গান গাই। তাহলে গায়ক নই। তবে কেন যদি কাব্য কথায় তুমি আসো আমাকে ‘কবি’ বলে। এই কবির খ্যাতি পেতে চাইনি কোনো দিন, লেখকের খ্যাতি চাইনি কোনো দিন। আমি তোমাকে চেয়েছিলাম জীবনের প্রথম বেলায়। অথচ সেই তুমি অবজ্ঞা আর অবহেলা চাদরে মুড়িয়ে চলে গেছ দূর থেকে আরও বহুদূর।

অনন্যা/এসএএস