প্রতিদিন একটি ডিম, এক মাসে শরীরে কী পরিবর্তন আসে?

সুষম খাদ্যাভ্যাসে ডিমের গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরেছেন পুষ্টিবিদরা। তাদের মতে, প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে একটি ডিম খাওয়ার অভ্যাস শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে সহায়তা করার পাশাপাশি পেশি, মস্তিষ্ক, হাড় ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, একটি বড় ডিমে প্রায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে। এছাড়া এতে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি-কমপ্লেক্স, ফলেট, কোলিন, সেলেনিয়াম, আয়োডিন, ফসফরাস, আয়রন ও জিঙ্কসহ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান কোষ গঠন, টিস্যু মেরামত, পেশির বৃদ্ধি এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত ডিম খাওয়া বিশেষ করে যারা ব্যায়াম করেন বা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের জন্য উপকারী। বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির ক্ষয় রোধেও পর্যাপ্ত প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডিমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, স্মৃতিশক্তি ও শেখার সক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব উপাদান বয়সজনিত দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ও ছানি পড়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিমে থাকা ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়িয়ে হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ভিটামিন এ, সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং ত্বক ও চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
ডিম খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যায়—এমন ধারণা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্যও তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় না। বরং অনেকের ক্ষেত্রে উপকারী এইচডিএল (HDL) কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে যাদের পারিবারিকভাবে কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা রয়েছে বা চিকিৎসকের বিশেষ খাদ্যনির্দেশনা আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
ডিম দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা বি-ভিটামিন খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করতে এবং ভিটামিন বি১২ রক্তকণিকা তৈরি ও স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক ও ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে ডিম নিরাপদ ও অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুধু ডিম নয়—ফল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, মাছ, ডাল ও স্বাস্থ্যকর চর্বিসহ সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চার সমন্বয়েই সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, কিডনি রোগ, গুরুতর লিভারের সমস্যা বা বিশেষ খাদ্যনিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত ডিম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



