বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

‘কীভাবে তাড়াতাড়ি ঘুমাবেন’— সেই ভিডিওটাই কেন দেখি রাত ২টায়?

IMG_20260723_013254

সারাদিন কাজের ব্যস্ততা শেষে মনে হয়, আজ একটু তাড়াতাড়ি ঘুমাব। কিন্তু বিছানায় শোয়ার পর হাতে উঠে আসে ফোন। একের পর এক রিলস স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ চোখে পড়ে— “৫ মিনিটে ঘুমিয়ে পড়ার উপায়” বা “রাতে দ্রুত ঘুমানোর টিপস”। তখন ঘড়িতে রাত ২টা! শুনতে হাস্যকর লাগলেও, এটাই এখন অনেকের বাস্তবতা।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আমরা প্রায়ই এমন সময় ফোন ব্যবহার করি যখন শরীর বিশ্রাম চায়, কিন্তু মস্তিষ্ক এখনও বিনোদন বা নতুন তথ্য খুঁজতে থাকে। ঘুমানোর আগে রিলস দেখার অভ্যাস আমাদের মনে সাময়িক আনন্দ দিলেও, সেই স্ক্রল থামানো কঠিন হয়ে যায়। ফলে যে ভিডিওটি ঘুমের পরামর্শ দিচ্ছে, সেটিই উল্টো ঘুম আরও দেরি করিয়ে দেয়। একে অনেকেই মজার ছলে বলেন “Sleep Procrastination”— অর্থাৎ ঘুমানোর সময় পেরিয়ে গেলেও ইচ্ছাকৃতভাবে জেগে থাকা। কখনও মনে হয়, সারাদিন নিজের জন্য সময় পাইনি, তাই রাতটুকুই নিজের। আর সেই সময়টুকু সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটাতে কাটাতেই কখন যে গভীর রাত হয়ে যায়, টেরই পাওয়া যায় না।

এর সঙ্গে রয়েছে ফোনের নীল আলো, যা শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ঘুম আসতে আরও সময় লাগে।

তাই যদি সত্যিই তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চান, তাহলে ঘুমের টিপসের রিলস দেখার চেয়ে ভালো উপায় হতে পারে ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোনটি দূরে রাখা। কারণ কখনও কখনও ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু ঘুম না আসা নয়— বরং “আর মাত্র একটা রিল দেখি” এই ভাবনাটাই।

Advertisements

সবশেষে প্রশ্নটা থেকেই যায়—
রাত ২টায় “কীভাবে তাড়াতাড়ি ঘুমাবেন” রিলস দেখার পরও যদি আর ২০টা রিলস দেখে ফেলেন, তাহলে সমস্যাটা কি ঘুমের… নাকি স্ক্রলের?

Advertisements
ঘুমভিডিওস্বাস্থ্য