বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬
জীবনযাপন

বাংলাদেশে ভ্যাপিংয়ের নীরব ছোবল ও তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য

young-woman-sunglasses-black-clothes-vaping-blowing-smoke-electronic-cigarette-gray-wall_231208-3713

বাংলাদেশে ই-সিগারেট বা ভ্যাপিংয়ের বিস্তার এখন আর কেবল একটি জীবনধারাগত প্রবণতা নয়; এটি ধীরে ধীরে একটি জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত যেখানে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় ভ্যাপিং সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে, সেখানে বাংলাদেশে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের তরুণদের মধ্যে এর ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতি ছয়জনের একজন বর্তমানে ভ্যাপ ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ আবার ‘ডুয়াল ইউজার’ যারা একইসঙ্গে সিগারেট ও ভ্যাপিং করেন। এই প্রবণতা শুধু নিকোটিন নির্ভরতা বাড়াচ্ছে না, বরং আসক্তিকে আরও জটিল করে তুলছে।

গবেষণার ফলাফল আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে এর সম্পর্ক সামনে আসে। ভ্যাপিং ও ধূমপান উভয়ই ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইকোলজিক্যাল ডিস্ট্রেস ও বিষণ্নতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একইভাবে শুধুমাত্র ভ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ ও বিষণ্নতার হার সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া গেছে। এই তথ্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, ভ্যাপিংকে ‘নিরাপদ বিকল্প’ হিসেবে দেখার ধারণাটি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভ্যাপিং এবং মানসিক স্বাস্থ্য

Advertisements

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ক্রস-সেকশনাল জরিপ শীর্ষক এই গবেষণাটি দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১,৬১৫ জন ১৮-২৫ বছর বয়সী স্নাতক শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত হয়। এর মধ্যে পাঁচটি সরকারি এবং দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রতি ছয়জনের একজন ভ্যাপ ব্যবহারকারী

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ১৫.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত ভ্যাপিং করেন। এর মধ্যে ৬.২ শতাংশ শুধুমাত্র ভ্যাপ ব্যবহার করেন, আর ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ভ্যাপ ও প্রচলিত সিগারেট উভয়ই ব্যবহার করেন। উদ্বেগজনকভাবে, ভ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ উচ্চমাত্রার নিকোটিনযুক্ত ই-লিকুইড ব্যবহার করেন, যা আসক্তির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।

ভ্যাপিং শুরু করার প্রধান কারণ হিসেবে ৩৭.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কৌতূহলকে দায়ী করেছেন। ২৬.২ শতাংশ জানিয়েছেন বন্ধুদের প্রভাব, আর ১৮.৫ শতাংশ সামাজিক ট্রেন্ড ও লাইফস্টাইল অনুসরণের কারণে শুরু করেছেন। প্রায় ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ভুলভাবে মনে করেন যে ভ্যাপিং প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর।

ফ্লেভার ও সামাজিক প্রভাবেই আকর্ষণ

ম্যাঙ্গো, স্ট্রবেরি, আপেলসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় ফ্লেভার, রঙিন ডিজাইন এবং অতিরিক্ত ধোঁয়া তৈরির সুযোগ তরুণদের ভ্যাপিংয়ের প্রতি আকৃষ্ট করছে। এসব উপাদান অনেক শিক্ষার্থীকে কৌতূহল ও সামাজিক প্রভাবে ভ্যাপিং শুরু করতে উদ্বুদ্ধ করছে, যা পরবর্তীতে নিকোটিন নির্ভরতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

Advertisements
অভ্যাসস্বাস্থ্য