ক্যারিয়ারে সফল হতে ইন্দ্রা নুইয়ের ৬ পরামর্শ

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা এবং পেপসিকোর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইন্দ্রা নুই ক্যারিয়ারে সফলতার জন্য ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। সম্প্রতি হুভার ইনস্টিটিউশনের একটি ডকুমেন্টারি সিরিজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এসব পরামর্শ তুলে ধরেন।
ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শিক্ষা, কর্মজীবন ও নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাওয়া ইন্দ্রা নুই মনে করেন, সাফল্যের জন্য শুধু প্রতিভা নয়, প্রয়োজন সঠিক সুযোগ, কঠোর পরিশ্রম, শেখার মানসিকতা এবং বিনয় ধরে রাখা।
তার দেওয়া ছয়টি পরামর্শ হলো—

১. সুযোগ খুঁজে নিতে হবে
ইন্দ্রা নুইয়ের নিজের জীবনই সুযোগ কাজে লাগানোর একটি উদাহরণ। ১৯৭৮ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান ইয়েল স্কুল অব ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা করতে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পরে তিনি বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ, মটোরোলা এবং পেপসিকোর মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পান। তার মতে, জীবনে এগিয়ে যেতে হলে নতুন সুযোগ খুঁজে বের করতে হবে এবং সেগুলো কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
২. একজন ভালো মেন্টর প্রয়োজন
ইন্দ্রা নুই বলেন, তার ক্যারিয়ারের সাফল্যের পেছনে দক্ষ মেন্টরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ তাকে দ্রুত শিখতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি অসাধারণ মেন্টরদের হাতে গড়ে ওঠা একজন মানুষ। তাদের সময়, শ্রম ও বিশ্বাসের জন্য আমি আজীবন কৃতজ্ঞ’।
তার মতে, ক্যারিয়ারে সঠিক সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়ার জন্য একজন ভালো মেন্টরের প্রয়োজন রয়েছে।

৩. কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই
ইন্দ্রা নুই মনে করেন, সাফল্যের পেছনে কঠোর পরিশ্রমের বড় ভূমিকা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তার ছাত্রজীবনের সময়টি ছিল বেশ কঠিন। পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে বিভিন্ন কাজ করতে হয়েছে।
তিনি সকালে ক্লাস করতেন, রাতে কাজ করতেন এবং মধ্যরাত থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ছাত্রাবাসে রিসেপশনিস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। তার মতে, কঠিন সময়ের পরিশ্রমই পরবর্তী জীবনের সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে।
৪. বর্তমান দায়িত্ব সবচেয়ে ভালোভাবে পালন করুন
ইন্দ্রা নুই বলেন, পেপসিকোতে যোগ দেওয়ার সময় তার লক্ষ্য সরাসরি সিইও হওয়া ছিল না। বরং তিনি যে দায়িত্ব পেয়েছেন, সেটি সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছেন।
তার ভাষায়, ‘আমি ভাবতাম, এই কাজই আমি নিখুঁতভাবে করব’।
তিনি মনে করেন, শুরু থেকেই ‘১০ বছরের মধ্যে সিইও হতে হবে’—এমন লক্ষ্য নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে অনেক সময় মানুষ বর্তমান কাজের ওপর মনোযোগ হারিয়ে ফেলে। বরং নিজের বর্তমান দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করলে ভবিষ্যতের সুযোগগুলো স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়।
৫. ঝুঁকি নিতে ভয় পাওয়া যাবে না
নুইয়ের মতে, ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে হলে হিসাব করে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। তিনি নিজেও কর্মজীবনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেখানে ব্যর্থতার ঝুঁকি ছিল।
তিনি জানান, কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি জানতেন চাকরি হারানোর আশঙ্কাও থাকতে পারে। তবে তার ও তার স্বামীর জীবনযাপন ছিল সাধারণ, ফলে প্রয়োজনে পরিস্থিতি সামলানোর আত্মবিশ্বাস ছিল।
৬. সবসময় বিনয়ী থাকতে হবে
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা হওয়ার পরও বিনয়কে নিজের বড় শক্তি মনে করেন ইন্দ্রা নুই। তিনি বলেন, তাকে বিনয়ী থাকতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে তার পরিবার।
তিনি তার মায়ের একটি উপদেশের কথা স্মরণ করেন। তার মা বলতেন, ‘তুমি যত বড় মানুষই হও না কেন, তোমার মুকুটটি গ্যারেজেই রেখে ঘরে ঢুকবে’।
এই শিক্ষাই তাকে মনে করিয়ে দিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে যত বড় অবস্থানেই পৌঁছানো হোক না কেন, ব্যক্তিগত জীবনে সাধারণ ও বিনয়ী থাকা জরুরি।
ইন্দ্রা নুইয়ের মতে, ক্যারিয়ারের সাফল্য শুধু পদ বা অর্থের ওপর নির্ভর করে না। শেখার আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং মানুষের প্রতি সম্মান—এসব গুণই একজন মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে সফল করে তোলে।



