আহত বাঘের শিকার ছিনিয়ে নেওয়ার পর বাঘের হামলায় শিকারির মৃত্যু

রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের প্রিমোরিয়ে অঞ্চলে ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে এক শিকারি ও একটি আমুর (সাইবেরিয়ান) বাঘকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা আজও বন্যপ্রাণী গবেষকদের কাছে অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় শিকারি ভ্লাদিমির মার্কভ বনাঞ্চলে একটি আমুর বাঘকে তার শিকার করা বুনো শূকর খেতে দেখতে পান। তিনি বাঘটিকে গুলি করে আহত করেন এবং পরে বাঘটির শিকার করা বুনো শূকরের মৃতদেহ নিয়ে চলে যান।
এরপর আহত বাঘটি কয়েক দিন ধরে মার্কভের গন্ধ অনুসরণ করে তার নির্জন বনাঞ্চলের কেবিন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তদন্তে উঠে আসে, কেবিনে গিয়ে বাঘটি মার্কভের গন্ধযুক্ত বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করে এবং পরে কেবিনের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে।
মার্কভ কেবিনে ফিরে আসার পর বাঘটি অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে জানা যায়।
ঘটনাটি তদন্ত করেন রাশিয়ার বিশেষ অ্যান্টি-পোচিং ইউনিট ‘ইনস্পেকশন টাইগার’-এর প্রধান ইউরি ত্রুশ। পরে লেখক জন ভায়ান্ট ২০১০ সালে প্রকাশিত ‘দ্য টাইগার’ গ্রন্থে তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং গবেষণার ভিত্তিতে ঘটনাটির বিস্তারিত পুনর্গঠন করেন।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঘটির আচরণ ছিল অত্যন্ত লক্ষ্যনির্ভর এবং অস্বাভাবিকভাবে পরিকল্পিত। তবে প্রাণীর মানসিক অবস্থা বা ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে গবেষকদের মধ্যে এখনও ভিন্নমত রয়েছে। ঘটনাটি আমুর বাঘের জটিল আচরণ, স্মৃতিশক্তি এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করে।



