বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
নারী

‘তরুণদের শুধু অনুপ্রেরণা নয়, প্রয়োজন সুযোগ ও সহায়তা’ : জাইমা রহমান

441af9d8e9b0315f289a57b266c4ef39-6a5a1cbd37a48

বাংলাদেশে মেধাবী তরুণ-তরুণীর কোনো অভাব নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তবে তিনি মনে করেন, এসব তরুণের সম্ভাবনা বিকাশে প্রয়োজন আরও বেশি সুযোগ, কার্যকর পরামর্শ (মেন্টরশিপ) এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

জাইমা রহমান জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার পরিচয় হওয়ার সুযোগ হয়েছে। এসব শিক্ষার্থী স্কাউটিং, বিজ্ঞানমেলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সংগীত, শিল্পকলা, ভাষা শিক্ষা ও কোডিংসহ নানা ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।

তিনি লেখেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, জানার আগ্রহ, শৃঙ্খলা ও দৃঢ় মনোবল তাকে মুগ্ধ করেছে। নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা নিজেদের পছন্দের বিষয়ে আরও দক্ষ হয়ে ওঠার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

জাইমা রহমানের ভাষ্য, বাংলাদেশে প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীর অভাব নেই। কিন্তু তাদের অনেককেই খুব অল্প বয়স থেকেই বড় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। কারও জীবনে রয়েছে আর্থিক সংকট, কারও কাঁধে পরিবারের দায়িত্ব। আবার ভিন্নভাবে সক্ষম অনেক শিক্ষার্থীকে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়। অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তাও পান না।

Advertisements

তিনি আরও বলেন, অনেক তরুণের কাছে সফল হওয়া যেন একটি বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়। নিজেদের ভবিষ্যৎ, পরিবারের দায়িত্ব কিংবা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে তারা মনে করে সফল হওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। অথচ এত অল্প বয়সে এমন দায়িত্ব বহন করা মোটেও সহজ নয়।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাইমা রহমান বলেন, এরপর থেকেই তিনি ভাবছিলেন—শিশু ও তরুণদের রোল মডেল কারা? তারা কাদের দেখে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে, কারা তাদের বিশ্বাস করায় যে জীবনে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব, আর কঠিন সময়ে কারা তাদের সাহস জোগায়।

তার মতে, রোল মডেল হতে হলে বিখ্যাত কিংবা নিখুঁত হওয়ার প্রয়োজন নেই। একজন বাবা বা মা, যিনি প্রতিকূলতার মধ্যেও কখনো হাল ছাড়েন না; একজন শিক্ষক, যিনি কোনো শিক্ষার্থীর লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে চিনে নিতে পারেন; একজন প্রশিক্ষক, যিনি শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মূল্য শেখান—তারাও প্রকৃত রোল মডেল হতে পারেন। এমনকি দূর থেকে দেখা কোনো অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষও একজন তরুণের মনে এই বিশ্বাস জাগাতে পারেন যে, ‘আমিও পারব।’

তিনি বলেন, অনুপ্রেরণা খুঁজতে বাংলাদেশের তরুণদের সব সময় দেশের বাইরের মানুষের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশেই অসংখ্য অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ রয়েছেন, যাদের সাহস, মেধা এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা সত্যিই গর্ব করার মতো। তাদের জীবনের গল্পের সঙ্গে দেশের তরুণ-তরুণীরা সহজেই নিজেদের মিল খুঁজে পেতে পারে।

জাইমা রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে তিনি এমন আরও অনেক অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে তিনি মনে করেন, শুধু অনুপ্রেরণা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু ও শিক্ষার্থী নিজের মেধা ও দক্ষতা বিকাশের সমান সুযোগ পাবে। শিক্ষা, খেলাধুলা কিংবা নতুন কোনো দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন ভাগ্য, পরিচিতজন কিংবা পরিবারের ত্যাগের ওপর নির্ভরশীল না হয়।

তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্মকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সমাজের আরও বেশি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের পথ দেখানো, তাদের পরামর্শ দেওয়া এবং নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়ার দায়িত্ব শুধু পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়, বরং সমাজেরও।

জাইমা রহমানের মতে, অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারে না একজন তরুণের জীবনে তার প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। একজন অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত মানুষের সামান্য উৎসাহ, একটু সহানুভূতি কিংবা বিশ্বাসও একজন তরুণকে অনুভব করাতে পারে যে সে গুরুত্বপূর্ণ, তার স্বপ্নের মূল্য রয়েছে এবং সে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, প্রশ্নটি এই নয় যে বাংলাদেশে যোগ্য ও মেধাবী তরুণ-তরুণী আছে কি না। এর প্রমাণ প্রতিনিয়ত দেশের চারপাশেই দেখা যায়। বরং আসল প্রশ্ন হলো—যখন তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন তাদের পাশে দাঁড়াতে আমরা সত্যিই যথেষ্ট করছি কি না।

Advertisements
অনুপ্রেরণাজাইমা রহমানতরুণমেধাবী