এআই চশমায় পরীক্ষায় নকল, উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষাঙ্গনে

পরীক্ষায় নকলের কৌশল দিন দিন বদলাচ্ছে। হাতে বা কাগজে নকল আনার পরিবর্তে এবার জালিয়াতির নতুন মাধ্যম হয়ে উঠছে এআই চশমা। এই স্মার্ট চশমার লেন্সে ভেসে ওঠে প্রশ্নের উত্তর। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকলের প্রবণতা বাড়ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় ইংরেজি পরীক্ষার সময় দুই পরীক্ষার্থীকে এআই চশমাসহ আটক করা হয়েছে। দেশটিতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে।
এদিকে তাইওয়ানে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে সন্দেহজনক আচরণের কারণে আটক করা হয়। প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর তিনি বারবার চশমার দিকে তাকাচ্ছিলেন। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার ব্যবহৃত চশমা থেকে তাপ নির্গত হচ্ছিল।
এ ধরনের ঘটনার পর গত মাসে চীন কলেজে ভর্তির সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় সব ধরনের চশমা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে। এ বছর দেশটির কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন প্রায় এক কোটি পরীক্ষার্থী।
বিশ্বজুড়ে এআই চশমার উৎপাদন ও বিক্রি দ্রুত বাড়ছে। ২০২৩ সালে মেটা রে-ব্যান ব্র্যান্ডের এআই চশমা বাজারে আনে। এরপর প্রতিষ্ঠানটি আরও বিভিন্ন মডেল উন্মুক্ত করে। শুধু গত বছরই মেটা প্রায় ৭০ লাখ এআই চশমা বিক্রি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই চশমা ব্যবহার করে পরীক্ষায় জালিয়াতি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এটি আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অন্যান্য ডিভাইসের তুলনায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকল করা আরও সহজ।
পাতলা আকৃতির এসব চশমা সহজে নজরে পড়ে না। স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে এগুলো আধুনিক এআই মডেলের সাহায্যে তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে।
হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মেং জিল্লি বাজারে পাওয়া একটি এআই চশমা ব্যবহার করে এ বিষয়ে পরীক্ষা চালান। পরীক্ষায় দেখা যায়, চশমা পরে শুধু প্রশ্নপত্রের দিকে তাকালেই সেটি প্রশ্নগুলো এআই মডেলে পাঠিয়ে দেয়। এরপর এআই উত্তর তৈরি করে চশমার লেন্সে তা প্রদর্শন করে।
১০০ জন মক পরীক্ষার্থীর ওপর চালানো ওই পরীক্ষায় দেখা গেছে, যারা এআই চশমা ব্যবহার করে উত্তর দিয়েছেন, তারা ফলাফলে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন।



