সাইকোজেনিক পলিডিপসিয়া: যে রোগে মানুষ লিটারে লিটারে পানি পান করেন

সাইকোজেনিক পলিডিপসিয়া নামের বিরল মানসিক সমস্যায় অতিরিক্ত পানি পানে হতে পারে মস্তিষ্কে চাপ, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও। পানি মানবদেহের জন্য অপরিহার্য। তবে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পানি পানও ডেকে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন একটি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার নাম সাইকোজেনিক পলিডিপসিয়া, যেখানে শরীরে পানির ঘাটতি না থাকলেও একজন ব্যক্তি বারবার পানি পান করার তীব্র তাড়না অনুভব করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাধারণ তৃষ্ণা নয়; বরং এক ধরনের বাধ্যতামূলক আচরণ (কম্পালসিভ বিহেভিয়ার)। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগ, যেমন সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার বা তীব্র উদ্বেগে ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
অতিরিক্ত পানি পানের ফলে শরীরে তৈরি হতে পারে ওয়াটার ইনটক্সিকেশন বা পানি বিষক্রিয়া। এতে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, যা হাইপোনাট্রেমিয়া নামে পরিচিত। রক্তে সোডিয়ামের ঘনত্ব কমে গেলে মস্তিষ্কসহ শরীরের বিভিন্ন কোষে পানি জমে ফুলে যেতে পারে। বিশেষ করে মস্তিষ্কে চাপ বেড়ে গেলে তা প্রাণঘাতী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হলে রোগীর মধ্যে তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা, মানসিক বিভ্রান্তি, মাংসপেশিতে খিঁচুনি বা দুর্বলতা এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

গবেষণা বলছে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৫ থেকে ২০ শতাংশ এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও অতিরিক্ত তৃষ্ণা দেখা দিতে পারে। আবার ওজন কমানোর আশায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান করার অভ্যাসও ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু পানি পানের পরিমাণ কমিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না। এর পেছনের মানসিক কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এজন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, নির্দিষ্ট পরিমাণ তরল গ্রহণ, রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা এবং আচরণগত থেরাপি কার্যকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পিপাসা না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত পানি পানের অভ্যাস থাকলে সেটিকে হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ, সুস্থ থাকার জন্য যেমন পানি প্রয়োজন, তেমনি অতিরিক্ত পানি কখনও কখনও হয়ে উঠতে পারে নীরব বিপদের কারণ।



